সাংগঠন ও এলাকায় জনপ্রিয়তা এগিয়ে রাখছে তৃণমূল প্রার্থীকে
বর্তমান | ১২ এপ্রিল ২০২৬
সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মজবুত সংগঠনের সঙ্গে রয়েছে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি। বিষ্ণুপুর বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী দিলীপ মণ্ডলের এটাই লড়াইয়ের রসদ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই দুই শক্তিতে ভর করে ভোটযুদ্ধের ময়দানে নেমেছেন তিনি। আগামী দিনে বিষ্ণুপুরকে ঘিরে তাঁর পরিকল্পনাও প্রস্তুত। এলাকাবাসীর মুখে মুখে এখন ঘুরছে ‘দিলীপদা’র নাম। তাঁরা বলছেন, বিষ্ণুপুরের পুরানো লোক উনি। চারবারের বিধায়ক। সবাই চেনে। কাজও করেছেন অনেক। তাই বিরোধীদের এখানে ছন্নছাড়া অবস্থা। বিজেপি এত দিন ল্যাজেগোবরে অবস্থায় ছিল প্রার্থী নিয়েই। বামেদেরও সেভাবে দেখা যাচ্ছে না।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মধ্যে এটি এমন একটি কেন্দ্র, যেখানে বিজেপিকে দু’বার প্রার্থী বদল করতে হয়েছে। যা নিয়ে রীতিমতো হাসাহাসি চলছে এলাকায়। পৈলান হাটের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এত বড়ো একটি সর্বভারতীয় দল, তারা নাকি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত আসনে জেনারেল ক্যাটিগরির প্রার্থী ঘোষণা করেছিল! ভাবা যায়! প্রচারে তো ওদের সেভাবে এখনো দেখা যাচ্ছে না। কয়েকটি এলাকায় মিছিল করছেন বলে শুনছি। কিন্তু বেশি লোকজন হচ্ছে না।’ তাছাড়া এই প্রার্থীকে নিয়েও বিজেপির অন্দরে অসন্তোষ রয়েছে বলে খবর। শেষ পর্যন্ত সবাই ভোটের কাজে নামবেন কি না, তা নিয়েও দলের অন্দরে একটা সংশয় রয়েছে। উলটো দিকে তৃণমূল প্রার্থীর যেকোনো কর্মসূচিতেই সাধারণ মানুষ থেকে কর্মী সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। এসবই বাড়তি অক্সিজেন দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। প্রতি অঞ্চলেই এককাট্টা হয়ে ঝাঁপিয়েছেন দলের উঁচু ও নীচুতলার নেতা- কর্মীরা। বিষ্ণুপুর ও ঠাকুরপুকুর মহেশতলা ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েত রয়েছে এই বিধানসভা এলাকায়। বৃষ্টিতে জল জমার সমস্যা থাকলেও উন্নয়ন নিয়েই কথা বলতে ব্যস্ত মানুষ। এলাকায় কান পাতলে এই কেন্দ্রের ভোল বদলের কথা ভেসে আসে। খাল সংস্কার থেকে পথশ্রীর রাস্তা, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্বীকৃতি প্রভৃতি। দিলীপবাবু বলেন, ‘সারা বছর আমরা কাজ করি। বিষ্ণুপুরের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচুর রাস্তা হয়েছে। তবে কাজের কোনো শেষ হয় না। জিতে এলেএই বিধানসভাকে কেন্দ্র করে আরও একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে। যেমন, একটি সরকারি কলেজ। বিজেপি যেভাবে রাজ্যকে বঞ্চনা করেছে সেটাই প্রচারে তুলে ধরছি। তাছাড়া, এই কেন্দ্রে বিরোধীদের সেভাবে দেখাই যাচ্ছে না।’
বামেদের দুর্গ হিসাবে এক সময় পরিচিত ছিল বিষ্ণুপুর। গত কয়েকটি নির্বাচনে তাদের ভোট ক্রমশ কমেছে। তবে এবার স্থানীয়দের একাংশ মনে করছে, লালের হাল কিছুটা ফিরতে পারে। যদিও তৃণমূলের তুলনায় তারা নিতান্তই ক্ষুদ্র শক্তি বলে জানাচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। বিরোধীদের প্রার্থীকেই দেখা যাচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। প্রচারে পিছিয়ে থাকার কথা মানছেন দুই বিরোধী দলের প্রার্থীও। সিপিএমের শ্যামলকুমার ডাল বলেন, ‘সব অঞ্চলে এখনও যাওয়া হয়নি। আমরা এলাকা ভাগ করে প্রচার করছি। কর্মী বৈঠকে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।’ বিজেপির প্রার্থী অভিজিৎ সর্দারের দাবি, ‘নাম দেরিতে ঘোষণা হয়েছে বলে বাকিদের থেকে আমরা পিছিয়ে আছি। এর একটা একটা নেতিবাচক প্রভাব ভোটারদের মনে পড়তেই পারে। তবে আমাদের কর্মীরা কেউ বসে নেই। তাঁরা নেমে পড়েছেন প্রচারে।’