প্রীতেশ বসু, হাওড়া: মধ্যরাত হোক বা সাতসকাল—যে কোনো সমস্যায় এক ডাকেই বিধায়ককে পাশে পান এলাকার মানুষ। সারা বছর এভাবে মানুষের পাশে থাকাই উত্তর হাওড়া কেন্দ্রের ভোটে তৃণমূল প্রার্থী তথা বিধায়ক গৌতম চৌধুরীকে এগিয়ে রাখবে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। এবার এই কেন্দ্রের একটি বিশেষত্ব হল, এখানে ভোটে লড়ছেন আরও দুই গৌতম! একজন সিপিএম প্রার্থী গৌতম রায়। অন্যজন হলেন নির্দল প্রার্থী গৌতম বর্মা।
দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার পরিচিত রাজনৈতিক মুখ তৃণমূলের গৌতম। ইতিপূর্বে তিনি হাওড়া পুরসভার মেয়র পারিষদের দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২১ সালে বিধায়ক হন তিনি। বিভিন্ন সময় এমন গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দায়িত্ব সামলালেও এলাকাবাসীর কাছে তিনি আজও ‘পাড়ার ছেলে’। দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে খাদ্য মেলা—উত্তর হাওড়ার প্রতিটি অনুষ্ঠানেই সমান সক্রিয় থাকতে দেখা যায় তাঁকে। ছাব্বিশের ভোটযুদ্ধে এসবই তৃণমূল প্রার্থীর ইউএসপি। তাই একই নামের একাধিক প্রার্থীর বিষয়টি নিয়ে একেবারেই বিচলিত নন তিনি। তাঁর কথায়, ‘সারা বছর মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। তাঁদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হওয়ার চেষ্টা করি। তাই একই নামের একাধিক প্রার্থী ইত্যাদি কোনো ইস্যু নয়।’ গত বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছিল উমেশ রাইকে। এবারও তাঁকেই টিকিট দিয়েছে দল। কিন্তু প্রার্থী বদলের পথে হেঁটেছে সিপিএম। ২০২১ সালে সিপিএম প্রার্থী করেছিল পবন সিংকে। তাঁর জায়গায় এবার উত্তর হাওড়ায় সিপিএমের হয়ে লড়াইয়ে নেমেছেন গৌতম রায়। বেশিরভাগ মানুষই ভেবেছিলেন, এবার উত্তর হাওড়ায় দু’জন প্রার্থীর নাম গৌতম। মনোনয়ন পেশের পর জানা যায়, নির্দল হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সি গৌতম বর্মা। মনোনয়নপত্রে দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী তিনি শিবপুরের অতীন্দ্র মুখার্জি লেনের বাসিন্দা। তবে তাঁর দাবি, তিনি সম্প্রতি উত্তর হাওড়ায় বসবাস শুরু করেছেন। তবে তৃণমূল এবং সিপিএমের দুই গৌতম এই বিধানসভা এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা। সিপিএম প্রার্থীর দাবি, ‘নাম এক হওয়াটা নিয়ে কোনো সমস্যাই হবে না। কারণ, প্রার্থীর নামের পাশাপাশি দলের প্রতীক দেখেই মানুষ ভোট দেবেন।’ তাছাড়া, প্রচার পর্বে তিনি সবার কাছে গিয়ে কথা বলছেন। তাই নাম এক হওয়ার কারণে ভুল হবে না বলেই আশা করছেন তিনি। এলাকার বাসিন্দা পাপ্পু বেতালের মতে, ‘কে প্রার্থী হচ্ছেন, সেটা তো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নির্দল প্রার্থীর বিষয়টি পরে জানা গিয়েছে। এটা নিয়ে চর্চা তো চলছেই।’ তবে শুধু নাম নয়! এই বিধানসভা কেন্দ্রের এক নির্দল প্রার্থী এবং তৃণমূল প্রার্থীর পদবিও এক। নির্দল হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন হরিনারায়ণ চৌধুরী। আর তৃণমূল প্রার্থীর পদবিও চৌধুরী।