• মমতার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবশ্রী ‘টুকে’ বিজেপির ইস্তাহার প্রকাশ অমিত শাহের
    বর্তমান | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বঙ্গ নারীদের সশক্তিকরণে মমতা বন্দ্যেপাধ্যায় ২০২১ সালে চালু করেছিলেন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প। মাসিক এই ভাতা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে সাধারণ জাতির মহিলাদের জন্য দেড় হাজার এবং তফসিলি জাতি-উপজাতির মহিলাদের ১৭০০ টাকা। অন্যদিকে, কর্মহীন যুবকদের জন্য রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পে মাসিক দেড় হাজার টাকা অনুদান দিচ্ছেন। যা নিয়ে রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল বিজেপি তীব্র কটাক্ষ ও কুৎসা ছড়িয়েছিল। কিন্তু ভোট বড় বালাই। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গবাসীর ‘মন পেতে’ তৃণমূল সুপ্রিমোর মস্তিষ্কপ্রসূত জোড়া এই সামাজিক প্রকল্প কার্যত টুকে দিল বিজেপি। শুক্রবার নিউ টাউনের এক অভিজাত হোটেলে বিজেপির নির্বাচনি ইস্তাহার প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এবারের ভোটে মহিলা ও যুবদের সমর্থন পেতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। তাই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবশ্রীর ধাঁচে মহিলা ও বেকারদের জন্য মাসিক তিন হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শাহ। এছাড়াও বিনা ভাড়ায় সরকারি বাসে মহিলারা যাতায়াত করতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যের সব চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ। ব্লকে ব্লকে দিনরাত চালু থাকবে মহিলা থানা ও প্রতি পুলিশ জেলায় মহিলা ডেস্ক। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বিজেপির ইস্তাহারকে ‘কপি ক্যাট’ বলে কটাক্ষও করেছেন। 

    বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি এদিন প্রতিশ্রুতির ফোয়ারা ছুটিয়েছেন। যার মধ্যে অন্যতম, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য কেন্দ্রীয় হারে ডিএ ও সপ্তম বেতন কমিশন লাগুর আশ্বাস। চাষিদের মুখে হাসি ফোটাতে চেষ্টার কসুর করেননি শাহ। প্রধানমন্ত্রী কিষাণ প্রকল্পের টাকা বাড়ানো হবে। কেন্দ্রের ৬ হাজার টাকার সঙ্গে নয়া রাজ্য সরকারের ৩ হাজার টাকা যোগ করে মোট ৯০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। উত্তরবঙ্গের বঞ্চনা দূর করতে একগুচ্ছ আশারবাণী শুনিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সূত্রে দার্জিলিংকে হেরিটেজ পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়াও উত্তরবঙ্গে একটি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস) ও একটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার কথা বলেছেন।   শাহের কথায়, ভয়হীন ও ভরসাযুক্ত বাংলা গড়া— আমাদের সংকল্পপত্রের মূল লক্ষ্য। গত প্রায় পাঁচ দশক বাংলাকে শুধু নীচে নামানো হয়েছে। আমরা বাংলায় আবার সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ আনব। দুর্নীতিমুক্ত রাজ্য বানাব। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অনুপ্রবেশ বন্ধ, শিল্পোন্নয়ন ও কৃষকের উন্নয়নে জোর দেবে নতুন সরকার।    
  • Link to this news (বর্তমান)