বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: রাস্তা লাগোয়া সুদৃশ্য বাসস্ট্যান্ড। সেখানেই দিনের পর দিন পড়েছিলেন এক অসুস্থ বৃদ্ধ। লোকে দেখেও দেখেনি! কেউ দেখলেও ব্যক্তিগত ব্যস্ততায় তাড়ায় এড়িয়ে গিয়েছেন। শেষে তৃণমূল কাউন্সিলারের উদ্যোগে দলের স্থানীয় কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। তারপরই বৃদ্ধের পরিচয় সামনে আসে। জানা যায়, ওই ব্যক্তি একজন বিজেপি কর্মী। বিজেপির বুথ এজেন্টও ছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। তৃণমূল কর্মীরা ওই ব্যক্তির ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে লেখেন, ‘সচেতন হোন বিজেপির বন্ধুরা। বিপদের সময় দল বা সহকর্মীরা পাশে থাকবে না। তৃণমূল কর্মীরা দল, ধর্ম, বর্ণ না জেনেই পাশে দাঁড়াবে।’ যদিও বিজেপির দাবি, অহেতুক রাজনীতি করছে তৃণমূল।
অসুস্থ ওই বৃদ্ধের নাম সন্তোষ দাস। তাঁর বাড়ি পানিহাটি পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের রামচন্দ্রপুরে। অবিবাহিত সন্তোষবাবু ছোট্ট বাড়িতে একাই থাকতেন। তিনি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রামচন্দ্রপুর কল্যাণ সমিতির বুথের ১২৯ নম্বর পার্টে বিজেপির বুথ এজেন্ট হিসাবে বসেছিলেন। বেশ কয়েকবছর আগে দুর্ঘটনায় তাঁর ডান পা বাদ যায়। কাঠের পা লাগিয়ে কোনোমতে তিনি চলাফেরা করতেন। স্থানীয়রা সপ্তাহ দুয়েক আগে তাঁকে তাঁর বাড়িতে দেখেছিলেন। তারপর খোঁজ মেলেনি। এদিকে, গত ১০ দিন ধরে সোদপুর-মধ্যমগ্রাম রোডের উপর কাঁচকল লাগোয়া বার্মাশেল বাসস্টপে এক বৃদ্ধের পড়ে থাকার খবর পান স্থানীয় কাউন্সিলার তথা রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র সম্রাট চক্রবর্তী। মুখ ভর্তি দাড়ি নিয়ে বাসস্ট্যান্ডের এক কোণে গুটিসুটি হয়ে শুয়েছিলেন সন্তোষবাবু। ওই বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে পানিহাটি কেন্দ্রে বিজেপির নির্বাচনি কার্যালয়। অথচ তাদের তরফে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি! বুববার সম্রাটবাবুর নির্দেশে দলীয় কর্মীরা পুলিশের সহযোগিতায় ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে পানিহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। বৃদ্ধকে বাসস্ট্যান্ডে স্নান করিয়ে নতুন জামাকাপড় পরানোর সময় তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে চিনতে পারেন।
সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিয়োয় তৃণমূলকর্মী সুজয় রক্ষিত বলেন, ‘করোনা হোক বা আয়লা, মানুষের আপদে-বিপদে আমরাই পাশে থাকি। ভোটের কাজের মধ্যেও ওই বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করানো উচিত বলে ভেবেছিলেন আমাদের কাউন্সিলার। অথচ, তাঁর খোজ রাখা উচিত ছিল বিজেপির কর্মীদের।’ সম্রাট চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা বৃদ্ধের পরিচয় জানতাম না। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর সময় দলের কর্মীরা পরিচয় জানতে পারেন। যাঁরা বিজেপি করেন, তাঁদের বলব, সন্তোষবাবুর পরিণতিটা দেখুন।’ তবে স্থানীয় বিজেপি নেতা জয় সাহা বলেন, ‘আমরা জানলে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা করতাম। একজন অসহায়কে উদ্ধার করে তা নিয়ে রাজনীতি করতে তৃণমূল ছাড়া আর কেউ পারবে না।’