বিশিষ্ট নেতাদের সুরক্ষা পরিকাঠামো সীমার মধ্যেই রাখতে হবে, পুলিশের ডিজির নির্দেশ সব জেলাকে
বর্তমান | ১২ এপ্রিল ২০২৬
শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: নিরাপত্তা পান এমন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সুরক্ষা পরিকাঠামো অনুমোদিত সংখ্যার মধ্যেই রাখতে হবে। বাড়তি কিছু করা যাবে না। নির্বাচন কমিশনারের এই নির্দেশ সমস্ত জেলার পুলিশ সুপার ও শীর্ষ আধিকারিকদের জানিয়ে দিলেন ডিজি। একইসঙ্গে অবাঞ্ছিত ব্যক্তিদের কোনোভাবেই নিরাপত্তা দেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের কাছে অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। একইসঙ্গে কলকাতা পুলিশের সিপি বৃহস্পতিবারই নির্দেশ দিয়েছেন, পদস্থ কর্তাদের রাত দশটা থেকে দুটো পর্যন্ত থানা এলাকায় থাকতে হবে।
ভোট এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীসহ একাধিক ভিভিআইপি কলকাতায় ও জেলায় সভা করতে আসছেন। তাঁদের সুরক্ষায় বিশেষভাবে সতর্ক রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। সুরক্ষার কারণে নির্দিষ্ট তালিকার বাইরে মঞ্চে বাড়তি কারো ওঠা নিষিদ্ধ। এমনকি পুলিশের অনুমতি ভিন্ন মঞ্চের পাশে অতিরিক্ত কোনো পরিকাঠামো তৈরি করা যাবে না। নির্বাচন কমিশনের নজরে এসেছে অনেক জায়গাতেই এই নিয়ম মানা হচ্ছে না। বাড়তি পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে অনুমতি ছাড়াই বাইরের লোকজন এসে বসছেন। যাঁদের সম্বন্ধে কোনো কিছু যাচাই করা হচ্ছে না। এক্ষেত্রে কোনো ঘটনা ঘটে গেলে তার দায় এসে পড়বে কমিশন ও পুলিশের ঘাড়ে। এনিয়ে বিভিন্ন অভিযোগও জমা পড়েছে কমিশনের কাছে।
অভিযোগগুলিতে এও উল্লেখ রয়েছে, ভিভিআইপি ক্যাটিগরিতে পড়েন না এমন অবাঞ্ছিত ব্যক্তিদেরও নিরাপত্তা রক্ষী দেওয়া হচ্ছে, যা তাঁদের পাওয়ারই কথা নয়। ভিভিআইপিদের সঙ্গে এই সমস্ত ব্যক্তি থাকছেন। তাঁদের জন্য বাড়তি পরিকাঠামোর ব্যবস্থা পর্যন্ত করা হচ্ছে। ভিভিআইপির সভায় নিরাপত্তা নিয়ে আসা অবাঞ্ছিত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট এলাকারই নয়, এনিয়ে রীতিমতো বিরক্ত কমিশন। এরপরই কমিশন রাজ্য পুলিশের ডিজিকে জানিয়ে দেয়, সুরক্ষাধারীদের পরিকাঠামো অনুমোদিত সংখ্যাতেই রাখতে হবে। তার অতিরিক্ত কিছু করা যাবে না। কোনো অবাঞ্ছিত ব্যক্তিকে নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া যাবে না এবং অন্য পরিকাঠামো তৈরি করা যাবে না তাঁদের জন্য। কোনো সোর্স থেকে অনুরোধ এলেও বিধির বাইরে যাওয়া যাবে না। এরপরই ডিজির তরফে এই নির্দেশিকা সমস্ত জেলায় বৃহস্পতিবারই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যদি কেউ এটি না মানেন তাহলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন আধিকারিকরা এবং সংশ্লিষ্ট অফিসারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের সিপি বৃহস্পতিবার পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপরই নির্দেশিকা জারিসহ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের কেস সিনিয়র অফিসাররা সুপারভাইজ করবেন। সমস্ত ধরনের নির্দেশ আইআর বুক অনুযায়ী করতে হবে। রাস্তায় পুলিশের উপস্থিতি বোঝাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে নাকা চেকিংয়ে হাজির থাকবেন পদস্থ আধিকারিকরা এবং তাঁদের এলাকায় রাত দশটা থেকে দুটো পর্যন্ত থাকতে হবে, যাতে যেকোনো ধরনের গোলমাল হওয়ামাত্রই নেওয়া যায়।