• উচ্চ প্রাথমিক: পড়ে থাকা প্রার্থীদের চাকরি দিতে শূন্যপদের হিসাব নিচ্ছে এসএসসি
    বর্তমান | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আদালতের নির্দেশে উচ্চ প্রাথমিকের ১২৪১ জন প্রার্থীকে সহশিক্ষকের চাকরি দিতে প্রাথমিক কাজ শুরু করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। শুক্রবার ডিআইদের কাছে তারা জানতে চেয়েছে, নিয়োগপত্র পেয়েও কত প্রার্থী কাজে যোগ দেননি, তার হিসাব দেওয়ার জন্য। স্কুলের নাম, বিষয়, প্রার্থীর পরিচয় প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসহ বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে। এই শূন্যপদগুলিতে কিছু প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে চাইছে কমিশন, এমনই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

    কমিশনের হাতে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শূন্যপদ থাকলেও এই ১২৪১ জনকে নিয়োগ দিতে পারেনি। এমনিতেই এই নিয়োগ হচ্ছিল আদালতের তত্ত্বাবধানে। তাই আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সবাইকে নিয়োগ না করায় আদালত অবমাননার মামলাও হয়। তা সত্ত্বেও একের পর এক শুনানিতে রাজ্য সরকার সময় চেয়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকারের যুক্তি, ‘ম্যাচিং ভেকেন্সি’ না থাকাতেই নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না এই প্রার্থীদের। কোনো স্কুলের ভাষা মাধ্যম, বিষয়, লিঙ্গ এবং সংরক্ষণের শর্ত প্রার্থীর সঙ্গে মিললেই সেটিকে ম্যাচিং ভেকেন্সি বলা হয়। এগুলি না মিললে তাতে নিয়োগ করা যায় না। আদালত অবশ্য জরুরি ভিত্তিতে এঁদের নিয়োগের জন্য নির্দেশ দিয়েছে। সেক্ষেত্রে নিয়োগবিধি কিছু অংশে লঙ্ঘিত হলেও তাতে আইনি বাধা হবে না, এমন বার্তাও দিয়েছিল আদালত। ৩০ এপ্রিল এই নিয়োগগুলি করার জন্য সময় চেয়েছে রাজ্য। তার আগে কমিশন এই শূন্যপদের খোঁজ ফের শুরু করায় আশায় বুক বাঁধছেন প্রার্থীরা।

    আপার প্রাইমারি চাকরিপ্রার্থী মঞ্চের সভাপতি সুশান্ত সোম বলেন, ‘কমিশনের এই উদ্যোগকে স্বাগত। তবে এটাও ঠিক, নন জয়েনিংয়ের শূন্যপদ বেশি হবে না। তা থেকে ম্যাচিং ভেকেন্সি বের হবে আরো কম। তাই এই শূন্যপদের ভরসায় থাকলে হবে না। যে শূন্যপদগুলি রয়েছে, সেগুলির রোস্টার পরিবর্তন করে নিয়োগ করতে হবে সবাইকে। এখন পরিবর্তিত নিয়মে রোস্টার পরিবর্তন আরো সহজ হয়ে গিয়েছে।’ 

    প্রসঙ্গত, প্রার্থীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বারবার আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন হলে শেষমেশ রুল জারি করে দিতে পারেন বিচারপতি। সেক্ষেত্রে শিক্ষাকর্তাদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হতে পারে।
  • Link to this news (বর্তমান)