নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্বাচন পর্ব শান্তিপূর্ণ করতে কড়া নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিন যাতে অপরাধীরা কোনো গোলমাল করতে না পারে সেজন্য এলাকায় চিহ্নিত অপরাধীদের ৭২ ঘণ্টা আগে খুঁজে বের করে তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিল কমিশন। এই তিনদিন তাদের লকআপেই থাকতে হবে। অপরাধের ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের থানায় ডেকে সতর্ক করতে পাঠাতে হবে নোটিস। সমস্ত জেলার পুলিশ সুপারসহ শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে কমিশনের তরফে এমনই নির্দেশ এসেছে বলে খবর। পাশাপাশি ভোটের দিন জেলে বসে অপরাধীরা যাতে ফোন করে তাদের শাগরেদদের সঙ্গে যোগাযোগ না করতে পারে তার জন্য সংশোধনাগারে তল্লাশির নির্দেশ দিয়েছে ইসিআই। যাতে এই সমস্ত জেলবন্দি অপরাধীর শাগরেদরা বসের নির্দেশমতো ভোটারদের ভয় দেখাতে না পারে, তার জন্যই এই বিশেষ সতর্কতা।
ভোটের দিন দুষ্কৃতীরা যাতে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতে না পারে সেজন্য অভিযুক্তদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের কাছে খবর এসেছে, এখনো বহু জেলাতেই দাগি অপরাধীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকেই খুন, খুনের চেষ্টা, গুলি চালানোর ঘটনায় অভিযুক্ত। তাদের ধরার ক্ষেত্রে উদ্যেগ নিচ্ছে না স্থানীয় থানা। পুলিশ পর্যবেক্ষকরা তালিকা ধরে এই সমস্ত অপরাধীদের নাম দিয়েছেন বিভিন্ন থানার অফিসারদের। শুক্রবার পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল কনফারেন্সে কমিশনের কর্তারা বুঝিয়ে দেন, ভোটের দিন অশান্তি, ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়া, তাঁদের মারধর এসব বরদাস্ত করা হবে না। অপরাধীদের দাপাদাপি মেনে নেবেন না। কীভাবে দাগি দুষ্কৃতীদের বাগে আনতে হবে তার দাওয়াই বাতলে দিয়েছে কমিশন। তাদের স্পষ্ট নির্দেশ, ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে এলাকার কুখ্যাত দুষ্কতীদের লকআপে ভরতে হবে। যেখান থেকেই হোক তাদের খুঁজে নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ এসেছে পুলিশের কাছে। ভোট পর্ব মিটলে তাদের ছাড়া হবে। কোনো অজুহাত শোনা হবে না।
পাশাপাশি জেলেও এবার বিশেষ নজর রয়েছে কমিশনের। তাদের কাছে খবর এসেছে, ভোটের দিনে জেলবন্দি অপরাধীরা গারদের পিছনে থেকে বাইরে থাকা দুষ্কৃতীদের নির্দেশ পাঠায়। সেইমতো ভোটারদের আটকানো বা ভয় দেখানো হয়। সেই কারণে কমিশন জেলগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে, কোনো অপরাধীকে প্যারোলে ছাড়া যাবে না। এমনকি, অস্থায়ী বা জরুরি ছুটি মঞ্জুর না করা হয় জেলে থাকা দুষ্কৃতীদের, পরিষ্কার এই নির্দেশও দিয়েছে কমিশন। জেলে জ্যামার সক্রিয় রাখতে হবে। জ্যামার ঠিকমতো চলছে কি না তার জন্য লগবুক মেনটেন করতে হবে প্রতিদিন। জেলের ভিতর কেউ মোবাইল ও সিম ব্যবহার করছে কি না তার জন্য প্রতিটি সেলে তল্লাশি চালাতে হবে নিয়মিত। এমনকি, হাই রিস্ক প্রিজনারদের সঙ্গে কারা দেখা করতে আসছে, তার উপরও বিশেষ নজরদারি চালাতে হবে। সাক্ষাতে আসা ব্যক্তি যাতে জেলবন্দির কাছ থেকে নির্দেশ নিয়ে গিয়ে শাগরেদদের কাছে সেই বার্তা পাঠাতে না পারে, এটা নিশ্চিত করাই কমিশনের লক্ষ্য।