নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দেগঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রে এবারের নির্বাচন তৃণমূলের কাছে প্রেস্টিজ ফাইট। তাদের লক্ষ্য, গতবারের তুলনায় জয়ের মার্জিন বাড়ানো। সেকারণে তৃণমূল প্রার্থী আনিসুর রহমান ওরফে বিদেশ শুরু থেকেই সংগঠিত ও পরিকল্পিত প্রচার শুরু করেছে। তিনি নিয়মিত সকালের দিকে বাড়ি বাড়ি প্রচার, বিকালে মিছিল এবং রাতে নেতৃত্বদের সঙ্গে বৈঠক করে চলেছেন। ধারাবাহিক প্রচারের মাধ্যমে প্রতিদিনই ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চলছে। বিশেষভাবে, দেগঙ্গা বিধানসভায় অর্ধেকের বেশি ভোটারই মহিলা। ফলে, মহিলা ভোটব্যাংককে গুরুত্ব দিয়েই তৃণমূল তাদের প্রচারের কৌশল সাজিয়েছে। বাড়ি বাড়ি প্রচারের সময় মহিলাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের সমস্যা, চাহিদা এবং প্রত্যাশার কথা শুনে তা সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন প্রার্থী। বিকালের মিছিলগুলিতেও মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে জোর দেওয়া হচ্ছে। রাতের বৈঠকে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে পরের দিনের প্রচারের কৌশল ঠিক করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, আইএসএফ প্রার্থী মফিদুল হক সাহাজি ওরফে মিন্টু দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রচার চালাচ্ছেন। ছোটো ছোটো কর্মিসভা ও জনসংযোগের মাধ্যমে সংগঠনকে মজবুত করার চেষ্টা করছেন তিনি। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, আইএসএফ প্রার্থী জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ পদ ছাড়লেও সদস্যপদ ছাড়েননি। যা তাঁর ক্ষমতার প্রতি আকর্ষণের ইঙ্গিত দেয়। এই বিষয়টিকে সামনে এনে তৃণমূল ভোটারদের ‘প্রভাবিত’ করার চেষ্টা করছে। এনিয়ে তৃণমূল প্রার্থী বলেন, আসলে তাঁরা যে ক্ষমতালোভী, তা পরিবারকে দেখলেই বোঝা যায়। তিনি এখনও জেলা পরিষদের সদস্যপদ ছাড়েননি। তিনি এমনভাবে হারবেন, নিজে মুখ লুকানোর জায়গা পাবেন না। আনিসুর রহমান বলেন, এতদিন যাঁরা আইএসএফ করলেন, তাঁরা আজ ব্রাত্য। দলবদল করে টিকিট পাওয়ার বিষয়টি মানতে পারছেন না তাঁরা। তাঁদের ভূমিকা আগামী দিনে দেখবেন। আমাদের লড়াই সাম্প্রদায়িক আইএসএফ ও বিজেপির বিরুদ্ধে। এই লড়াই মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার। পালটা আইএসপ্রার্থী মফিদুল হক সাহাজি বলছেন, যাঁরা এই ধরনের বড়ো বড়ো কথা বলছেন, তাঁরা রাজনীতির কিছুই বোঝেন না। হঠাৎ করে উত্থান হলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। আমি কর্মাধ্যক্ষ থেকে পদত্যাগ করার পাশাপাশি তৃণমূলের সব পদ ছেড়েছি। ওরা ভয়ে এখন অনেক কিছুই বলবে। আমরা ওর কৌশলকে গুরুত্বই দিচ্ছি না। এদিকে, বিজেপি প্রার্থী তরুণকান্তি ঘোষ বলেন, ওরা নিজেরা লড়াই করুক, এর ফায়দা আমরা তুলব। ভোট কাটাকাটির খেলায় আমরা জিতব।
প্রসঙ্গত, এই বিধানসভা কেন্দ্রে ২ লক্ষ ৪০ হাজার ভোটার রয়েছে। ১১টি পঞ্চায়েত ও ২৬২টি বুথ নিয়ে গঠিত দেগঙ্গা বিধানসভা মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। অতীতে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত হলেও এবারের নির্বাচনে আইএসএফের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। নিজস্ব চিত্র