• শ’পাঁচেক গাড়ি হাঁকিয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়া সিপিএম প্রার্থীর গ্যারাজ ফাঁকা! আফরিনের আয় রাজ্য সরকারি স্কলারশিপ
    বর্তমান | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাঁকে দেখে যে কেউ দক্ষিণি ছবির নায়ক বলে ভুল করতে পারেন! হালকা চাপ দাড়ি, সাদা পাঞ্জাবির সঙ্গে ধুতি পরেন কেরালা স্টাইলে। তিনি উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘি কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী হাজি মহম্মদ শাহাবুদ্দিন। গত ৪ এপ্রিল মনোনয়ন জমা দিয়েছেন শ’পাঁচেক গাড়ির মিছিল নিয়ে। কিন্তু তাঁর হলফনামায় দেখা যাচ্ছে, শাহাবুদ্দিনের নিজস্ব কোনো গাড়ি নেই। তবে তাঁর হাতে রয়েছে ১৭ লক্ষ টাকা নগদ। অন্যদিকে, সিপিএমের অন্যতম কনিষ্ঠ প্রার্থী বালিগঞ্জের আফরিন বেগমের রোজগার বলতে কেবল রাজ্য সরকারের স্কলারশিপ! 

    এই বাজারে শ’পাঁচেক গাড়ি নিয়ে সিপিএম প্রার্থীর মনোনয়ন? নেতাদের চোখ কপালে উঠেছে! কে এই হাজি শাহাবুদ্দিন? সিপিএমের যে কোনো মনোনয়ন মিছিলে এখন চর্চা তাঁকে নিয়েই। শাহাবুদ্দিনকে ফোন করা হলে দেশোয়ালি উচ্চারণে তিনি বললেন, ‘শোনেন, আমার বাড়ি এখানেই। গ্রামের নাম ভুলকি। আমি রাজনীতির সঙ্গে আগে যুক্ত ছিলাম না। কিছু শিক্ষিত লোক, শুভাকাঙ্খীদের জন্য রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলাম। আমি কৃষক পরিবারের ছেলে। আমার দাদার বিড়ির ব্যবসা আছে। সেই সূত্রে এলাকায় ঘুরতাম।’ তা বলে মনোনয়ন জমা দিতে ৫০০ গাড়ি? বাম প্রার্থীর কথায়, ‘আমি ছ’জনকে আসতে বলেছিলাম। সেই কথা হাওয়ায় ছড়িয়ে যায়। সেদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখি, গোটা ৪০ গাড়ি। কিষাণ মাণ্ডি অর্থাৎ যেখান থেকে আমার মিছিল শুরু হওয়ার কথা, সেখানে গিয়ে দেখি, গাড়ির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কেউ আমাকে ভাড়া বা খাবারের জন্যও ফোন করেনি। বুঝলাম, এটাই মানুষের ভালোবাসা।’ ৬৩ বছরের এই বিড়ি ব্যবসায়ীর হলফনামা বলছে, তাঁর হাতে ১৭ লক্ষ ও তাঁর স্ত্রীর হাতে ২৩ লক্ষ টাকা নগদ রয়েছে। শাহাবুদ্দিনের ব্যাঙ্কে আছে ৩০ হাজারের কিছু বেশি টাকা। প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা দামের গাড়ি রয়েছে তাঁর স্ত্রীর নামে। কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থীর হাতে এত টাকা? শাহাবুদ্দিন শীতল গলায় বলেন, ‘সরকারের কাছে লুকাবো কেন? আছে, তাই লিখেছি।’ কথায় কথায় বললেন, ‘কিছু জমিজায়গা আছে। আর বিড়ির ব্যবসা।’ ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রাক্তন বিধানক গোকুলবিহারী রায়কে নিয়েই তিনি প্রচার করছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসছে কৃষকের ফসলের দাম, স্থানীয় স্কুলের কথা।  

    এদিকে, বালিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী আফরিন তাঁর হলফনামায় বলেছেন, তাঁর আয়ের উত্স রাজ্য সরকারের স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ। 

    আফরিন বলছিলেন, ‘এটা তো আমি আমার মেধার জোরে পেয়েছি। সব প্রকল্পে টাকা বাড়ানো হচ্ছে, এটাতে কেন হচ্ছে না?শেষ ৯-১০ মাস আমরা স্কলারশিপের টাকা পাইনি। এই টাকা বাড়ানোর জন্য আমরা বিকাশ ভবন অভিযানও করেছি। উচ্চশিক্ষায় যাবে কীভাবে লোকজন? আমরা চাই, কেন্দ্রের স্কলারশিপও চালু হোক।’ মঙ্গলবার আফরিন সিপিএমের কলকাতা জেলা অফিস থেকে বালিগঞ্জ কেন্দ্রের জন্য বামেদের ইস্তাহার প্রকাশ করেন। একেবারে ওয়ার্ডভিত্তিক স্থানীয় ইস্যু ও তার সমাধান কোন পথে, তা উল্লেখ করা হয়েছে ওই ইস্তাহারে। 
  • Link to this news (বর্তমান)