• দিল্লি-গুজরাতে বসে বাংলা চালাতে দেব না: অভিষেক
    বর্তমান | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার কলকাতায় এসে বিজেপির ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করেন, বিজেপির সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী মুখ কে? এ প্রশ্নের কোনো যথাযথ জবাব দেননি শাহ। উলটে কটাক্ষের সুরে তিনি জানান, বাংলাকে ‘বাংলাদেশিরা’ পরিচালনা করবে না। দিল্লি-গুজরাত আছে! তাঁর এই জবাবের পর তৃণমূল সহ রাজনৈতিক মহলের বড়ো অংশ মনে করছে, অমিত শাহ কার্যত স্বীকার করে নিলেন যে বিজেপি জিতলে দিল্লি-গুজরাত থেকেই পরিচালিত হবে বাংলা। এর সূত্রেই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ বিজেপিকে তোপ দাগলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ জবাব, ‘দিল্লিতে বসে রিমোট কন্ট্রোলে বাংলার মানুষের প্রাপ্য টাকা বন্ধ করেছে বিজেপি। ওরা যদি বাংলায় ক্ষমতায় আসে, তাহলে দিল্লি-গুজরাত থেকে বাংলা পরিচালিত হবে। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না।’ সেই সঙ্গে রাজ্যের মানুষের কাছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের আবেদন, ‘যে বিজেপি বাংলা মানেই বাংলাদেশি মনে করে, তাদের যোগ্য জবাব দিতেই হবে।’ এদিন বিজেপির ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘বাংলাকে ছোটো করে দেখছেন বিজেপি নেতারা। অমিত শাহ প্রকাশ্যেই স্বীকার করে নিয়েছেন, বিজেপি যদি এখানে ক্ষমতায় আসে, তাহলে বাংলা পরিচালিত হবে দিল্লি-গুজরাত থেকে। কিন্তু এটা কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না।’

    প্রসঙ্গত, বাংলার আম জনতাকে কখনো অনুপ্রবেশকারী, কখনো রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি তকমা লাগিয়ে অসম্মান করার প্রবণতা দেখা যায় একাধিক বিজেপি নেতার মধ্যে। এদিন অমিত শাহের বক্তব্যেও বারবার ‘অনুপ্রবেশকারী’ প্রসঙ্গ এসেছে। অভিষেক বলেন, ‘কলকাতা তথা বাংলাকে বিজেপি দেখছে বাংলাদেশি দৃষ্টিভঙ্গিতে। আমি অমিত শাহের কাছে জানতে চাই, শেখ হাসিনা দিল্লিতে কী করছেন? দেড় বছর ধরে নরেন্দ্র মোদি আশ্রয় দিয়ে রেখেছেন। তিনি অনুপ্রবেশকারী নাকি শরণার্থী? কোন শিল্পপতিকে বাঁচানোর জন্য কি এটা করা হয়েছে, জবাব দিন বিজেপি নেতারা’ তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলার আগে বিজেপি নেতাদের ‘নিজেদের দিকে তাকানোর’ পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল সেনাপতি। তাঁর কটাক্ষ, ‘অমিত শাহকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন কয়লা মাফিয়া। ওঁর পাশে দুর্নীতিগ্রস্তরাই বসে আছেন।’ বিজেপির ‘সংকল্পপত্র’-কে  ‘চিটফান্ডের প্রতিশ্রুতি’ বলে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ওদের সব প্রতিশ্রুতি মিথ্যা। টাকার প্রলোভন দিয়ে ভোট কেনা, আর মানুষকে সর্বস্বান্ত করা।’ নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে অভিষেকের ব্যাখ্যা, ‘দিল্লিতে সরকার গঠনের পর ৮ মার্চ থেকে মহিলাদের ২৫০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। ১৪ মাস অতিক্রান্ত। একজন মহিলা পাঁচ পয়সাও পাননি।’ সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, ‘আগামী ২০ বছর বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসতে পারবে না। ওরা বিরোধী থাকবে। এবার তৃণমূলের ফল ২০২১ সালের সাফল্যকেও ছাপিয়ে যাবে।’ এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যে দু’শোর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তার জন্য বিন্দুমাত্র দুঃখপ্রকাশ না করে অমিত শাহ ও নির্বাচন কমিশন বাংলার ভোটকে প্রহসনে পরিণত করেছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
  • Link to this news (বর্তমান)