আগুনে ভস্মীভূত বিরাটির যদুবাবুর বাজার নতুন করে তৈরির কাজ শুরু
বর্তমান | ১২ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সম্প্রতি ভয়াবহ আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায় বিরাটির প্রাচীন যদুবাবুর বাজার। বছরের শেষে কয়েক কোটি টাকার সামগ্রী পুড়ে নষ্ট হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছিল ব্যবসায়ীদের। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন মন্ত্রী তথা বিধায়ক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল ও পুরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় এক কোটি টাকা খরচ করে সেই কাজ শুরু হয়েছে। তদারকি করছেন পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা। ভোট প্রচারে এই বিষয়টি তুলে ধরছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, তৃণমূল কথা দিলে কথা রাখে। যদুবাবুর বাজার পুনর্নির্মাণ তারই জলজ্যান্ত উদাহরণ। যদিও বিরোধীদের দাবি, আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান করা হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের আগে ব্যবস্থা নিলে এত ক্ষতির মুখে পড়তে হত না ব্যবসায়ীদের। বাজারের বাকি অংশেরও উন্নয়ন প্রয়োজন।
বিরাটির যদুবাবুর বাজার উত্তর দমদমের অন্যতম প্রাচীন পুর-বাজার। বিরাটি স্টেশন লাগোয়া অংশে বাজারটি রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে সেখানে ভয়াবহ আগুন লাগে। প্রায় ২০০ দোকান ভস্মীভূত হয়ে যায়। ইংরাজি নববর্ষের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি দোকানে লক্ষ লক্ষ টাকার সামগ্রী মজুত করা হয়েছিল। আগুনে সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় হাহাকার ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না দোকানদারদের। পরদিন সকালেই পোড়া বাজার পরিদর্শনে আসেন চন্দ্রিমাদেবী, পুরসভার চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস সহ অন্যান্যরা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন তাঁরা। ৩১ তারিখ চন্দ্রিমাদেবী তাঁর বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে ৫৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেন। পুরসভার তহবিল থেকে আরও ১৮ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা জানানো হয়। এছাড়াও সেখানে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন, আধুনিক টয়লেট ব্লক ও সিসি ক্যামেরার নজরদারির পরিকল্পনা হয়। প্রাথমিকভাবে পুরসভার সাহায্য নিয়ে অস্থায়ী দোকানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নতুন করে বাজার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। হাসি ফুটেছে ব্যবসায়ীদের মুখে। স্থানীয় ব্যবসায়ী শিশির সিংহ বলেন, ‘যা ক্ষতি হয়েছে, তা তো আর ফিরবে না। বিধায়ক ও পুরসভা উদ্যোগ নিয়ে আধুনিক বাজার গড়ছেন। সেটাও কম পাওনা নয়। কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে এমন বিপর্যয় আর হবে না বলেই আমরা আশাবাদী।’
উত্তর দমদমের সিপিএম নেতা শিবশঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘এই সরকারি বাজারে পুরসভার নিরাপত্তারক্ষী থাকা সত্ত্বেও আগুন কীভাবে লাগল, তা আজও প্রকাশ্যে আসেনি। বিপুল ক্ষতির শিকার হওয়া ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি আজও অমীমাংসিত। ধামাচাপা দেওয়ার মতো করে সবই চুপিসারে হচ্ছে। বাজারের পরিকাঠামো উন্নয়ন আগে হল না কেন? শহরের বাকি বাজারের পরিস্থিতি নিয়ে পুরসভা কী পদক্ষেপ করছে? এসব প্রশ্নের উত্তর তৃণমূল আগে দিক। তারপর ভোট চাইবে।’ শহর তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বিন্দুমাধব দাস বলেন, ‘২০০১ সালে বাজার ভস্মীভূত হওয়ার পর যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হলে এখন এই পরিণতি হত না। তৃণমূল কথা দিলে কথা রাখে। তাই বিপুল টাকা খরচে আধুনিক বাজার তৈরি হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত পুলিশ করছে। বাজারের ব্যবসায়ী ও শহরবাসী জানেন, কারা তাঁদের বিপদের বন্ধু।’