রাজ্যে ভোটপ্রচারে আসছেন রাহুল গান্ধী। বিধানসভা ভোটের আগে এই প্রথম বাংলা সফরে আসছেন রাহুল। সূত্রের খবর, ১৪ এপ্রিল রাজ্যে তিনটি জনসভা করবেন রাহুল গান্ধী। তার মধ্যে ২টি সভা উত্তরবঙ্গে হবে।
মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং রায়গঞ্জে তিনটি সভা করার কথা রাহুলের। ১৪ এপ্রিল পরপর সভা হবে। ওই দিন সকাল ১১টা নাগাদ প্রথম সভা করবেন মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ বিধানসভা এলাকায়। ওই সভা শেষ করে হেলিকপ্টারে উড়ে যাবেন মালদা। সেখানে সভা করার পরে রায়গঞ্জে সভা করবেন। এর পরে তিনি সরাসরি কলকাতা পৌঁছে সেদিনই দিল্লি ফিরে যাবেন।
মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ বিধানসভা দক্ষিণ মালদা লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। গত লোকসভা ভোটে দক্ষিণ মালদায় জিতেছিলেন ইশা খান চৌধুরী। বাংলায় কংগ্রেসের শক্তি এখনও যেখানে টিকে রয়েছে, তার মধ্যে মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুর অন্যতম। বিধানসভা ভোটে এই এলাকায় জয় পেতে এ বার প্রচারে আসছেন খোদ রাহুল। কিন্তু এই সফর ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস বললেই সবার আগে ওঠে অধীর চৌধুরীর কথা। এ বার তিনি বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছেন। মুর্শিদাবাদ এলেও কেন তিনি বহরমপুরে সভা করছেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কংগ্রেসের অন্দরেই।
যদিও এই প্রসঙ্গে অধীর বলেন, ‘মুর্শিদাবাদ জেলার প্রতিটি মহকুমা এলাকায় একটি করে সভা করার কথা রয়েছে রাহুল গান্ধীর। জঙ্গিপুর মহকুমা এলাকা দিয়ে তাঁর সেই নির্বাচনী প্রচার সভা শুরু হবে।’ অধীর জানান, এর পরেও রাহুল গান্ধী রাজ্যে আসবেন সভা করতে। তখন তাঁকে মুর্শিদাবাদ জেলার অন্য মহকুমা এলাকায় সভা করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে।
আগে থেকেই কংগ্রেস জানিয়েছিল, এ বার বিধানসভা ভোটে সর্বশক্তি দিয়ে লড়বে তারা। বাংলার জন্য আলাদা করে পরিকল্পনাও করা হয়েছে। গোটা রাজ্যকে চারটি অংশে ভাগ করে ভোট প্রচার করবে দল। উত্তর, দক্ষিণ, মধ্য এবং জঙ্গলমহলের জন্য কংগ্রেস আলাদা করে নির্বাচনী প্রচার পরিকল্পনা করেছে৷ দিল্লিতে দলীয় সূত্রের দাবি, উত্তরবঙ্গে দলের প্রচারের মুখ হবেন ওয়েনাড় কেন্দ্রের সাংসদ, দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী৷ দক্ষিণবঙ্গে প্রচারের দায়িত্ব সামাল দেবেন লোকসভায় বিরোধী দলনেতা, কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী৷ হাওড়া এবং কলকাতার বিভিন্ন আসনেও নজর দেবেন তিনি। তাঁর সঙ্গে এই জনসভায় যোগ দিতে পারেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সহ দলের প্রথম সারির একাধিক সাংসদ, নেতা ও নেত্রীরাও৷
তথ্য সহায়তা: অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভাশিস সৈয়দ