হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) ১৯ মিনিটের ভিডিয়ো ঝড় তুলে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক তথা আম জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। এ বার বাবরি মসজিদ নির্মাণের ট্রাস্ট ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া’-র ক্যাশিয়ারের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন মইনুল হক ওরফে রানা। হুমায়ুনের বিরুদ্ধে বাবরি মসজিদ নির্মাণের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। শনিবার রেজিনগরের প্রতাপ সঙ্ঘ ময়দানে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সভায় তৃণমূলে (TMC) যোগদান করেন মইনুল।
রেজিনগর হুমায়ুনের গড় বলে পরিচিত। এ দিন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের বাড়ির কাছেই রেজিনগর ও ভরতপুরের তৃণমূল প্রার্থী আতাউর রহমান ও মুস্তাফিজুর রহমান সুমনের সমর্থনে জনসভা করেন অভিষেক। ওই সভাতেই তৃণমূলে যোগদান করেন মইনুল।
তৃণমূলে যোগ দিয়েই হুমায়ুনের বিরুদ্ধে বাবরি মসজিদ নির্মাণের টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ করে মইনুল বলেন, ‘ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার সময়ে ক্যাশিয়ার হিসেবে চেকে আমার সই থাকার কথা। কিন্তু হুমায়ুন নিজেই সই করে টাকা তুলে নিচ্ছেন। সেই টাকা কোথায় খরচ করছেন, কিছুই জানতে পারছি না।’ শুধু তাই নয়, মসজিদ নির্মাণের পুরো টাকাই হুমায়ুন এবং তাঁর ছেলে কুক্ষিগত করে রেখেছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
হুমায়ুনের সঙ্গে বিজেপির গোপন আঁতাত রয়েছে অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার একটি ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় অনলাইন) সামনে আনে তৃণমূল। সেখানে শোনা যায়, বিজেপির কাছ থেকে হাজার কোটি টাকা চেয়েছেন তিনি। বদলে বিজেপিকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিতেও দেখা যায় তাঁকে। এই ভিডিয়ো নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন মইনুল। তাঁর কথায়, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। ওই ভিডিয়ো আমাকে জোর ধাক্কা দিয়েছে। তাই আর দেরি করিনি। ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।’
তবে ফাঁস হওয়া ভিডিয়ো আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স দিয়ে বানানো বলে পাল্টা তোপ দেগেছেন হুমায়ুন। সব দায় তৃণমূলের উপরে চাপিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এখন আর সোজাপথে মোকাবিলা করতে পারছে না। AI দিয়ে ভিডিয়ো বানিয়ে হুমায়ুন কবীরের ক্ষতি করার চেষ্টা হচ্ছে। আমি কাউকে ছাড়ব না। তৃণমূলের যে নেতারা সাংবাদিক বৈঠক করে এই সব জানিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের নামে মানহানির মামলা করব। এই অভিযোগের প্রমাণ দিতে হবে।’
তবে ভিডিয়ো সামনে আসার পরেই হুমায়ুনের সঙ্গ ত্যাগ করেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির রাজ্য সভাপতি তথা ভরতপুরের প্রার্থী খোবায়েব আমিন। তিনি বলেন, ‘দলের সভাপতি হিসেবে কাজ করা সম্মানের ছিল।’ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎও কামনা করেন তিনি। এ বার হুমায়ুনের হাত ছাড়লেন মইনুলও।