• ‘মণিপুরের দিকে দৃষ্টি ফেরান...’, বাঙালি জওয়ানের মৃত্যুতে মোদী-শাহকে তুলোধনা অভিষেকের
    এই সময় | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • আবারও উত্তপ্ত মণিপুর। সেই অশান্তির শিকার বাংলার জওয়ান। মণিপুরে কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যু মালদার বাসিন্দা মিঠুন মণ্ডলের। এর পরেই মণিপুরের হিংসাত্মক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের উদ্দেশে আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মালদার বাসিন্দা ওই BSF জওয়ানের মৃত্যুতে এক যোগে অমিত শাহ এবং নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করেন তিনি। অভিষেকের কথায়, বাংলাকে ‘পরিবর্তন’ নিয়ে বড় বড় বুলি শোনান যাঁরা, তাঁদের উচিত সবার আগে মণিপুরের পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি দেওয়া এবং সেখানে শান্তি ফেরানো।

    শনিবার মালদার জওয়ানের শহিদ হওয়ার প্রসঙ্গে অভিষেক এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘জেলার এক বাঙালি বিএসএফ (BSF) জওয়ান—যিনি মণিপুরের উখরুল জেলায় মোতায়েন ১৭০তম ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন—জঙ্গিদের গুলিতে শহিদ হয়েছেন। তাঁর মৃত্যু। যারা বাংলাকে ‘পরিবর্তন’ নিয়ে বড় বড় বুলি শোনান, তাঁদের উচিত সবার আগে মণিপুরের পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি দেওয়া।’

    এখানেই শেষ নয়, ওই এক্স পোস্টেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তুলোধনা করে অভিষেকের তোপ, ‘প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বাংলায় প্রচার করার জন্য প্রচুর সময় আছে, কিন্তু মণিপুরে গিয়ে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা জাতিগত হিংসার স্থায়ী সমাধান করতে এক মিনিট সময়ও নেই। প্রায় ৩০০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। লক্ষাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। হারিয়েছেন ভিয়েমাচ্’ তৃণমূল সাংসদের কথায়, বাংলার পাল্টানো দরকার বলে জনসভা থেকে স্লোগান তুললেও মণিপুরের দিকে কোনও নজর দিচ্ছেন না শাহ-মোদী। এর বদলে তাঁদের লক্ষ্য হওয়া উচিত উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে শান্তি স্থাপন করা।

    এই প্রসঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক লিখেছেন, ‘বাংলায় এসে ‘পাল্টানো দরকার’ বলে চিৎকার জুড়ে দেওয়ার আগে, মিস্টার মোদী এবং মিস্টার শাহ—আপনারা আপনাদেরই ‘অষ্টলক্ষ্মী’ রাজ্যের সেই অসহায় মানুষদের জন্য অর্থবহ কিছু একটা করে দেখান।’

    প্রসঙ্গত, মণিপুরের উখরুল জেলায় দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়ে অশান্তি। সেখানেই কর্তব্যরত ছিলেন মালদার BSF জওয়ান মিঠুন। শুক্রবার বিকেলে অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনাটি ঘটেছে মণিপুরের উখরুল জেলার মংকোট চেপু এলাকায়। সূত্রের খবর, মিঠুন BSF-এর ১৭০ ব্যাটালিয়নের আলফা কোম্পানির সদস্য ছিলেন। পরিবারে স্ত্রী, দুই সন্তান এবং বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন।

  • Link to this news (এই সময়)