• লালহলুদ পরম্পরা, রক্তের আকাল সামাল দিচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা
    এই সময় | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, শ্রীরামপুর: বিধানসভা ভোটের আবহে ক্লাব সংগঠন ও উদ্যোক্তারা ব্যস্ত হয়ে পড়তেই, ছেদ পড়েছে পাড়ায় পাড়ায় স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরে। তাতেই রক্তসঙ্কট মাথাচাড়া দিয়েছে সরকারি ও বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে। তার উপরে গরমের প্রকোপ রক্তের জন্য হাহাকারের আশঙ্কা তীব্র করেছে। অবস্থার মোকাবিলায় প্রতি বারের মতো এ বারেও প্রায় ১৫৮জন রক্তদাতাকে নিয়ে রক্তদান শিবির করল লালহলুদ পরম্পরা ইস্টবেঙ্গল ফ্যানস ক্লাব।

    সম্প্রতি ফুটবলপ্রেমীদের এই আবেগকে কুর্নিশ জানিয়েছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও রক্তদাতা সংগঠনগুলি। শ্রমজীবী ব্লাড ব্যাঙ্কের পক্ষে গৌতম সরকার বলেন, 'গরম ও ভোটের আবহে নিত্য দিন রক্ত না পেয়ে, রোগীর আত্মীয়রা বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। তাতে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ছে। এই মুহূর্তে লালহলুদ পরম্পরার রক্তদান শিবির রক্তের ঘাটতি মেটানোর পক্ষে দারুণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।'

    ফুটবলের প্রতি বাঙালির চিরকালীন আবেগ ও ভালোবাসা সম্বল করেই একঝাঁক খেলাপাগল ছাত্র-তরুণ, তরুণীর হাত ধরে শ্রীরামপুরে মাহেশ কলোনিতে তৈরি হয়েছিল লালহলুদ পরম্পরা ইস্টবেঙ্গল ফ্যানস ফোরাম। খেলার মাঠে প্রিয় দলের জন্য গলা ফাটানো ছাড়াও, বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ও স্বাস্থ্যকর খাবার বিলি ছিল তাদের অন্যতম রুটিন।

    উদ্বাস্তু কলোনির ছেলেমেয়েরা একজোট হয়ে লালহলুদ পরম্পরার ব্যানার নিয়ে কলকাতা ও জেলায় জেলায় দেশ ভাগের যন্ত্রণা ভোলার তাগিদেই খেলার মাঠ ও ইস্টবেঙ্গল ফুটবলের প্রতি নাড়ির টানে একাত্ম হয়েছে সবাই। সংগঠন ডানা মেলতেই মৃদুল, শানু, শিবু, গোপাল, অর্ণব, অরিন্দম, রাজীব, বাবাই, মমতার মতো ইস্টবেঙ্গলিরা খেলার মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সামিল হয়েছে।

    প্রতি বারের মতো এ বারও সংগঠনের সদস্য প্রসেনজিৎ বণিকের (বাবাই) অকাল প্রয়াণের ঘটনায় এই রক্তদান শিবির করা হয়। সংগঠনের সম্পাদক মৃদুল দেবনাথ বলেন, 'সমাজ সংস্কারের ভাবনা থেকেই ২০২২ সালের আগস্টে পুরুলিয়া স্টেশন থেকে প্রায় ৫৫ কিমি দূরে এক প্রত্যন্ত গ্রাম নির্ভয়পুরে শবর জনগোষ্ঠীর শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব নিয়েছে এই সংগঠনের সদস্যরা। সেই সঙ্গে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা শবর জনজাতি অধ্যুষিত এই গ্রামের প্রায় ৭০ জন পড়ুয়ার লেখাপড়ার খরচ ও নিয়মিত মিড-ডে মিলের দায়িত্ব সামলাচ্ছি আমরা।'

  • Link to this news (এই সময়)