• ‘চেষ্টা হয়েছিল আমার নমিনেশন খারিজ করার’, মমতার বিস্ফোরক অভিযোগ পদ্ম–ইসির বিরুদ্ধে
    এই সময় | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে গোটা দেশের নজর রয়েছে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে, যেখানে মুখোমুখি লড়াইয়ে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার আগে ভোটে যাতে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাই না–করতে পারেন, তার চক্রান্ত করেছিল বিজেপি— শনিবার এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূলনেত্রী। এ দিন পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়িতে নির্বাচনী জনসভা থেকে মমতার দাবি, ভবানীপুর কেন্দ্রে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এই গোটা ঘটনার জন্য তিনি সরাসরি বিজেপি এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) একযোগে কাঠগড়ায় তুলেছেন। যদিও বিজেপি একে ‘হারের ভয়ে প্রলাপ’ বলেই ব্যাখ্যা করেছে।

    এ দিন কেশিয়াড়ির সভায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে মমতার আক্রমণের মূল ফোকাস ছিল তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে মনোনয়ন বাতিলের নেপথ্যে চক্রান্তের তত্ত্ব ঘিরে। দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ মমতা সরাসরি কারও নাম না–করে এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার কেন্দ্রে নমিনেশন কাটার জন্য ওই গদ্দাররা চক্রান্ত করেছিল। আমার নামে দু’টো মিথ্যে এফিডেভিট করে আমার নমিনেশন ক্যান্সেল করার চেষ্টা করেছিল।’ তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, তাঁকে নির্বাচনে লড়তে বাধা দেওয়ার জন্যই এই পরিকল্পিত ছক কষা হয়েছিল। মমতার কথায়, ‘অনেক অসম্মান করেছে, যাতে আমি না দাঁড়াতে পারি। আমরা প্রতিরোধ করেছিলাম বলেই নমিনেশন বাতিল করতে পারেনি। কিন্তু ভেবে দেখুন, আমার উপরে এই অত্যাচার যদি করতে পারে, তা হলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ওরা কী করছে!’

    ঠিক কী ভাবে এবং কারা এই দু’টি ‘মিথ্যে এফিডেভিট’ জমা দিয়েছিল, তা স্পষ্ট করেননি মমতা। এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার পরে শুভেন্দু একাধিকবার দাবি করেছেন, ২০২১–এ নন্দীগ্রামের পরে ২০২৬–এ ভবানীপুরেও তিনি হারাবেন তৃণমূলনেত্রীকে। যদিও মমতা বারবারই আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেছেন, কমিশন এই কেন্দ্রের হাজার হাজার ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে। তারপরেও তিনিই জিতবেন ভবানীপুরে। এই নার্ভের লড়াইয়ের মাঝে মমতার এ দিনের অভিযোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। য

    দিও কমিশনের তরফে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগকে পাত্তা দিতেই নারাজ। তাঁর বক্তব্য, ‘রাজ্যপাট এবং ভবানীপুর ওঁর হাতছাড়া হচ্ছে, সেটা উনি ভালো করেই বুঝে গিয়েছেন। তাই এখন থেকেই হারার গ্রাউন্ড সাজিয়ে রাখছেন।’ রাহুলের সংযোজন, ‘নমিনেশন ঠিক মতো হলে সেটা কেউ বাতিল করতে পারে না। উনি নিজেই কনফিডেন্ট নন যে, ওঁর নমিনেশন ঠিক মতো হয়েছিল কি না। যদি ভুল করে থাকেন তা হলে বাতিল হবে। আর সেটা বুঝেই এখন দোষারোপ করছেন।’

    প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দফায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ৯ এপ্রিল। শুক্রবার স্ক্রুটিনি শেষ হয়েছে। এই দফায় মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন‍ হলো ১৩ এপ্রিল। প্রথম দফার ভোটে যাঁরা প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে পুরুলিয়ায় সিপিএম প্রার্থী সোনামণি টুডুর মনোনয়ন তফসিলি উপজাতি শংসাপত্র নিয়ে গোলমালে খারিজ হয়। বিষয়টি আগেই আঁচ করে সিপিএম বিকল্প হিসেবে শান্তিমণি মুর্মুকেও মনোনয়ন দিয়েছিল। শেষমেশ তিনিই দলের প্রার্থী হচ্ছেন। আবার দ্বিতীয় দফার ভোটে নদিয়ার কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অভিনব ভট্টাচার্যের মনোনয়ন শেষবেলায় খারিজ হওয়ায় সেখানে দলীয় প্রার্থী হিসেবে শেষমেশ স্বীকৃতি পেয়েছেন সোমনাথ দত্ত।

    নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ভোটার লিস্টে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার) প্রক্রিয়াকেও একটি বড় ‘স্ক্যাম’ বলে তোপ দেগেছেন মমতা। তাঁর দাবি, ‘এই সব কিছুই আসলে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার একটা মরিয়া প্রচেষ্টা।’ তারই অঙ্গ হিসেবেই ভবানীপুরে তাঁর নমিনেশন বাতিলের চক্রান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে এই সভা থেকেও ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিজেপি গণতন্ত্রকে সম্মান করে না।’ ভোটদান থেকে শুরু করে ফল ঘোষণা পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। এমনকী, ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সরকারি গাড়িতে করে টাকা বিলি করা হতে পারে বলেও মমতা অভিযোগ করেছেন। তাই বহিরাগত কাউকে দেখলেই সাধারণ মানুষকে দ্রুত অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)