• বন্দুক চালানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে RSS, অভিযোগ মমতার
    এই সময় | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির মতো আদিবাসী প্রধান এলাকায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) রীতিমতো বন্দুক চালানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলে শনিবার অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন কেশিয়াড়িতে নির্বাচনী জনসভা ছিল তাঁর। সেখানে তাঁর এই মন্তব্যের পরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মমতার ভূমিকা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল বিজেপি। সমালোচনায় সরব সিপিএম-ও। আরএসএস মমতার মন্তব্যকে 'অত্যন্ত দুঃখের এবং হতাশার' বলে চিহ্নিত করছে।

    এ দিনের জনসভায় মমতা বলেন, 'কেশিয়াড়ির মাটি আদিবাসীদের শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু এখানে আবার আরএসএস-এরও একটা শক্ত ঘাঁটি আছে।' এর পরেই সুর চড়িয়ে তাঁর অভিযোগ, 'সেখানে ট্রেনিং দেওয়া হয়। বন্দুক চালানোর ট্রেনিং। সব খোঁজ খবর আমি রাখি।' একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, 'যাঁরা ভালো কাজ করেন, তাঁদের আমি সম্মান করি। কিন্তু যাঁরা ভোট কাটেন, তাঁদের আপনারা বর্জন করুন।' এ বিষয়ে প্রশাসন ও জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী।

    মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে কৌতূহলও উস্কে দিয়েছে। অতীতে আরএসএস নিয়ে তাঁর মুখে 'ভিন্ন সুর' শোনা গিয়েছিল বলে প্রবীণ রাজনীতিকদের অনেকের পর্যবেক্ষণ। আগে একাধিক বার মমতা জানিয়েছেন, তিনি আরএসএস-কে 'সম্মান করেন'। 'আরএসএস ভালো, কিন্তু বিজেপি খারাপ'— এ কথাও শোনা গিয়েছিল তাঁর মুখে। এখন হঠাৎ সংঘ সম্পর্কে তাঁর এ ধরনের অভিযোগ কেন, মাথাচাড়া দিয়েছে সে প্রশ্ন।

    তাঁর এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে আসরে নেমেছে পদ্ম–ব্রিগেড। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা মমতার অভিযোগকে 'কল্পকথা' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। রাহুলের বক্তব্য, 'আমাদের দেশে যদি কেউ বন্দুক নিয়ে ট্রেনিং করে, তবে সেটা সম্পূর্ণ বেআইনি। মুখ্যমন্ত্রী তো নিজেই রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি এ কথা বলে আসলে নিজেরই চরম ব্যর্থতা তুলে ধরলেন।' রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যে মুখ্যমন্ত্রীর কাঁধেই, সে কথা স্মরণ করিয়ে রাহুলের সংযোজন, 'উনি যখন সব খবরই রাখেন, তা হলে আগে ব্যবস্থা নেননি কেন? আসলে এ সব কল্পকথা বলছেন। একজন ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রীর মুখে ব্যর্থতার কথাই মানায়।'

    আরএসএস নেতা জিষ্ণু বসুর প্রতিক্রিয়া, '২০২৪–এ কেশিয়াড়ির এই ক্যাম্পেই গিয়েছিলেন সংঘ–প্রধান মোহন ভাগবত। এই মুখ্যমন্ত্রীই তৎকালীন পুলিশ সুপারকে দিয়ে মিষ্টি পাঠিয়ে ছিলেন। একটি গণতান্ত্রিক দেশে একজন দায়িত্বশীল মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখের এবং হতাশার।'

    নির্বাচনী আবহে আরএসএস-এর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর এই গুরুতর অভিযোগ এবং বিজেপির জোরালো পাল্টা আক্রমণ রাজনৈতিক উত্তাপ বেশ খানিকটা চড়েছে। মমতার বিরুদ্ধে সরব বামেরাও। সিপিএম-নেতৃত্বের কথায়, 'এ রাজ্যে কৃষকরা ফসলের দাম চাইলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের মিছিল করতে দেন না। চাকরিহারারা আন্দোলন করলে পুলিশ নামান। শ্রমিকরা ধর্মঘট করলেও সরকারি ফতোয়া নেমে আসে। অথচ ওঁর রাজ্যেই আরএসএস–কে উনি কী সুন্দর অস্ত্র শিবির চালাতে দিচ্ছেন! জেনেশুনেও কিছু করছেন না!' এই কারণেই তৃণমূলের জমানায় বিজেপির এত বাড়বাড়ন্ত বলে দাবি এক নেতার। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূলের কেউ সরাসরি মুখ খুলতে চাননি।

  • Link to this news (এই সময়)