• পদ্মের মন্ত্র...! UCC নিয়ে সতর্কতা মুখ্যমন্ত্রীর, ‘ভয় পেয়েছেন’, পাল্টা আক্রমণে বিজেপি
    এই সময় | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: বিজেপির সংকল্পপত্র প্রকাশ করতে গিয়ে শুক্রবার অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বাংলায় কুর্সি দখল করার পরে এ রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকর করা হবে। ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরে ছ’মাসের মধ্যে এ রাজ্যে ইউসিসি চালু করবেন তাঁরা। এর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এই ইস্যুতে কেন্দ্রকে নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় তাঁর তিনটি জনসভা ছিল, যেখানে কিছু এলাকায় আদিবাসীদের জনঘনত্ব বেশি। সেখানেই মমতার ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা, ‘ইউসিসি হলে নিজের ধর্ম, নিজের আচার–অনুষ্ঠান, সংস্কৃতি কিছু পালন করতে পারবেন না। বিজেপি যা মন্ত্র পড়ে েদবে, সেটাকেই মেনে চলতে হবে।’ যদিও পাল্টা বিজেপির দাবি, ইউসিসির সঙ্গে নিজস্ব আচার–আচরণ, ধর্মপালনে বাধার কোনও প্রশ্নই উঠছে না। মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে আতঙ্কিত করতেই এই সব কথা বলছেন।

    এর আগেও ২০২৪–এ লোকসভা নির্বাচনের আগে ইউসিসির তীব্র বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছিল তৃণমূলনেত্রীকে। তবে এ বার বিধানসভা ভোটে যে ভাবে ইউসিসি–কে অস্ত্র করতে উঠেপড়ে নেমেছে বিজেপি, তাতে আরও ক্ষুব্ধ মমতা। এ দিন আদিবাসী জনতাকে সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বলছে, বাংলা জিতলে ইউসিসি করবে! কতটা খারাপ জিনিস জানেন? ইউসিসি হলে কী হয়, নিজেরা আলোচনা করে নেবেন।’ তাঁর ব্যাখ্যা, ‘আদিবাসীদের বিয়ে হয় তাঁদের নিয়মে। আমাদের বিয়ে হয় আমাদের নিয়মে। মুসলমানরা তাঁদের মতো করে বিয়ে করেন। কেউ সন্ধ্যায় বিয়ে করেন, কেউ দুপুরে বিয়ে করেন। এই ইউসিসি হলে নিজের ধর্ম, নিজের আচার–অনুষ্ঠান, সংস্কৃতি কিছু করতে পারবেন না।’ মমতার দাবি, ‘বিজেপি যা মন্ত্র পড়ে েদবে, সেটাকেই মেনে চলতে হবে। নিজেরা আলোচনা করুন, কী হতে পারেন দেখুন।’

    কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার জন্য গেরুয়া শিবির তৎপর। ইউসিসির পক্ষে গেরুয়া শিবিরের সব থেকে বড় ব্যাখ্যা হলো, এক দেশে এক রকম আইন মেনেই সবাইকে চলতে হবে। আবার যাঁরা এর বিরোধিতা করেন তাঁদের যুক্তি, একটি আইন জারি করে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় মনোভাব সবাইকে মানতে বাধ্য করা যায় না। নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাস অনুযায়ী মানুষের বসবাস করার অধিকার সাংবিধানিক।

    বিজেপি সেটাকেই ধ্বংস করতে চাইছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা মেরুণা মুর্মুর কথায়, ‘ইউসিসির অর্থ হলো নিজস্ব সংস্কৃতিকে পুরোপুরি অস্বীকার করা। মূলনিবাসী, সংখ্যালঘু মানুষের স্বাধীন ভাবে ধর্মপালন, রীতি নীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনুসরণ করার সম্পূর্ণ অধিকার কেড়ে নেবে এই ইউসিসি। তা হয়ে উঠবে হিন্দুত্বের আস্ফালন।’ যদিও এটা মানতে নারাজ বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা। তাঁর কথায়, ‘ইউসিসিতে কোথাও লেখা নেই তা কার্যকর হলে কেউ নিজস্ব ধর্ম, রীতি, সংস্কৃতি মেনে চলতে পারবেন না। আসলে মুখ্যমন্ত্রী এই সব কথা বলে ভোটের মুখে মানুষকে আতঙ্কিত করছেন। বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।’

    অন্য দিকে আদিবাসী জনতার অনেকেই সারি ও সারনা ধর্ম অনুসরণ করেন। কিন্তু সরকারি নথিতে তার কোনও স্বীকৃতি নেই। এই স্বীকৃতির দাবিতে বহুদিন ধরেই দেশজুড়ে আদিবাসীরা আন্দোলন করছেন। মমতা এ দিন সেই প্রসঙ্গও ছুঁয়ে যান। তিনি বলেন, ‘সারি ও সারনা ধর্মের স্বীকৃতির জন্য আমরা বিধানসভায় বিল এনেছি। একাধিকবার কেন্দ্রের কাছে চিঠি লিখেছি। তারপরেও ওরা সেটা মানেনি।’ আদিবাসীদের প্রতি মমতার আশ্বাসবাণী, ‘অপেক্ষা করুন। বিজেপি খুব তাড়াতাড়ি দিল্লি থেকে ক্ষমতাচ্যুত হবে। আমরা তারপরে গিয়ে আপনাদের স্বীকৃতি দেবো।’ বিজেপির বাংলা দখলের সংকল্পের বিরুদ্ধে মমতা জানান, তাঁর সংকল্প হলো দিল্লি দখল করা।

  • Link to this news (এই সময়)