এই সময়: কেন্দ্রীয় বাহিনীতে দুর্নীতির অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে, তাঁকে কোনও রকম সহানুভূতি নয়। এমন পর্যবেক্ষণ দিয়ে জওয়ান মহম্মদ ফারহাদ জামানকে চাকরি থেকে বরখাস্তের যে সিদ্ধান্ত বিএসএফ কর্তৃপক্ষ নিয়েছিলেন, তা বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। বরখাস্তের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যে মামলা হয়েছিল, বিচারপতি অমৃতা সিনহা বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল তা খারিজ করে দিয়ে বলেন, 'মামলার নথিতে থাকা বিপুল তথ্যপ্রমাণ থেকে প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট, এক চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের কয়েক জনের সঙ্গে মামলাকারীর ষড়যন্ত্রে চালানো হতো এক বেআইনি চক্র।'
গোটা ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে যে, ২০১৮-এর কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের 'ফিট' মেডিক্যাল সার্টিফিকেট পাইয়ে দিতে প্রার্থী পিছু প্রায় ২ লক্ষ টাকা নেওয়া হতো। এই চক্রে এক সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার, চিকিৎসক লোকেশ্বর খাজুরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের কথাও উঠে এসেছে। তদন্তে একটি আর্থিক লেনদেনের চক্রেরও সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যেখানে আবেদনকারী জওয়ানের একটি নন-স্যালারি অ্যাকাউন্টে ৮০ হাজার টাকা জমা পড়ে এবং পরে তা অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়।
আদালত জানায়, হোয়াটসঅ্যাপের কথোপকথন মুছে ফেলার অভিযোগ এবং চাকরিপ্রার্থী ও তাঁদের পরিবারকে চুপ করিয়ে রাখার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ওই ঘটনায় সিবিআই তৎকালীন ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা রুজু করেছে।
মামলার যাবতীয় নথি দেখে বিচারপতি সিনহা বলেন, 'এ ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত কোনও বাহিনীর সদস্যের প্রতি সহানুভূতি দেখালে সমাজে ভুল বার্তা যাবে। এ ধরনের বেআইনি কাজকে কঠোর হাতে দমন করতে হবে।' আদালতের আরও বক্তব্য, 'বিএসএফ কেন্দ্রের একটি সশস্ত্র বাহিনী। এখানে সততা ও শৃঙ্খলার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের অভিযোগের মুখে থাকা কোনও সদস্যকে চাকরিতে রাখা অভিপ্রেত নয়।'
আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, 'এমন লোককে চাকরিতে বহাল রাখা জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী।' শুনানিতে বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই মামলায় একাধিক সাধারণ নাগরিক জড়িত থাকায় বিএসএফের নিজস্ব আইনে বিচার প্রক্রিয়া চালানো বাস্তবসম্মত নয়। আদালত এই যুক্তি মেনে নিয়েও জানায়, তদন্ত বা বিচার ভেঙে ভেঙে করা সম্ভব নয়।
হাইকোর্টে দায়ের করা মামলায় বিএসএফের চাকরি থেকে বরখাস্ত জওয়ানের দাবি ছিল, তাঁকে যথাযথ নোটিস দেওয়া হয়নি এবং সকল নথি সরবরাহ করা হয়নি। আদালত এই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে জানায়, অভিযোগ ও প্রমাণ যথেষ্ট স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। আবেদনকারী নিজের বক্তব্য জানানোরও সুযোগ পেয়েছিলেন, যা যথাযথ ভাবে বিবেচনাও করা হয়েছে। আদালতের মন্তব্য, 'এত বিপুল প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এমন এক উর্দিধারী কর্মীকে চাকরিতে বহাল রাখা কোনও বিচক্ষণ ব্যক্তি সমর্থন করবেন না।' হাইকোর্ট জানায়, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ আইন মেনে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ওই জওয়ানকে বরখাস্ত করার নির্দেশে হস্তক্ষেপের কোনও কারণ আছে বলে আদালত মনে করছে না।