• সন্দেশখালিতে ট্রাঙ্কের ভিতরে মা-মেয়ের আধপোড়া দেহ, হাড়হিম ঘটনা
    এই সময় | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • নৃশংস ঘটনা সন্দেশখালিতে (Sandeshkhali)। ট্রাঙ্কের ভিতর থেকে উদ্ধার হলো মা ও সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যার আধপোড়া, অর্ধনগ্ন দেহ। ট্রাঙ্কের ভিতরে হাঁটু মুড়ে বসে মা, পায়ের কাছে সন্তানের দেহ! রবিবার সকালে শিউরে ওঠার মতো ঘটনাটি ঘটেছে সন্দেশখালির মণিপুর এলাকায়। ঘটনাস্থলে সন্দেশখালি থানার পুলিশ ও বসিরহাট জেলা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে স্বামী বিপ্লব মাইতিকে। গোটা ঘটনাই রহস্যে মোড়া এখনও।

    স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার বিপ্লবের বাবা, মা সোনারপুরে গিয়েছিলেন। তিনি, তাঁর স্ত্রী ও তাঁর ভাই-ভাইয়ের বৌ বাড়িতে ছিলেন। রবিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে বিপ্লব দেখেন, বিছানায় স্ত্রী, সন্তান নেই। এর পরেই দোতলায় বারান্দায় রাখা একটি ট্রাঙ্কের মধ্যে ২২ বছর বয়সি স্ত্রী ও তাঁর ছোট্ট মেয়ের আধপোড়া দেহ দেখতে পান বলে অভিযোগ।

    অভিযোগ মহিলার দেহটি বসা অবস্থায় ছিল, পায়ের কাছে শিশুর দেহ রাখা ছিল। পাশেই রাখা ছিল কেরোসিনের জার। কিন্তু সেই জার পোড়েনি। ভোরের দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে অনুমান। সকালে সন্দেশখালি থানার পুলিশ এসে দেহ দু’টি উদ্ধার করে।

    খবর পেয়ে মণিপুর গ্রামপঞ্চায়েত প্রধান প্রসেনজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, ঘটনা মর্মান্তিক। পুলিশ তদন্ত করছে। তিনি বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গেই আমি ভিতরে যাই। দেখি বাক্সের মধ্যে বসা অবস্থায় রয়েছেন মহিলা। পায়ের কাছে শিশু। পাশে কেরোসিনের জার রাখা। এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে যা শুনলাম, বাড়ির সদস্যদের মধ্যে খুবই ভালো সম্পর্ক। তবে বৌমার কোনও একটা শারীরিক অসুস্থতার কথা বলছিলেন তাঁর বাবা। বলতেন, ‘আমার মেয়েকে তোমরা দেখো’। পুলিশ তদন্ত করছে। কী ঘটনা, তারাই খতিয়ে দেখছে।’

    কিন্তু এলাকার একাংশের দাবি, একজন কী ভাবে ট্রাঙ্কে ঢুকে বসে এই ঘটনা ঘটালেন? আগুন লাগলে শরীরে যে জ্বালাপোড়া হওয়ার কথা, তাতে এ ভাবে বসে থাকা কি সম্ভব? পুলিশ তদন্ত করছে। মৃতের দাদার কথায়, ‘সকাল ৫টা সাড়ে ৫টা নাগাদ ফোনে জানানো হয়, এই ঘটনা। ঘটনাটা আমাদের স্বাভাবিক লাগছে না। একটা বাড়ির মধ্যে এই ঘটনা ঘটে গেল, কেউ জানতেই পারল না? সঠিক তদন্ত হোক।’

  • Link to this news (এই সময়)