এই সময়, শিলিগুড়ি: নির্বাচনের আগে শিলিগুড়িতে ঘাঁটি গেড়ে বসতে পারে বহিরাগতরা। এই আশঙ্কা থেকে এ বার শহরের বিভিন্ন হোটেলে হানা দিতে শুরু করেছে পুলিশ। কখনও থাকি উর্দিতে, কখনও সাধারণ পোশাকে। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের বিভিন্ন থানা থেকে হোটেলের তথ্য সংগ্রহের কাজও শুরু হয়েছে।
শনিবার শিলিগুড়ি থানার পুলিশের একটি দল হিলকার্ট রোড, বিধান রোড-সহ বিভিন্ন হোটেলে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছে। এ ছাড়াও জংশন এলাকা, এনজেপি, সেবক রোড, বর্ধমান রোড-সহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে হোটেলগুলিতে নজরদারি চালাতে শুরু করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা বলেন, 'হোটেলগুলিতে নজরদারি চলছে। নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন মেনেই কাজ করছে পুলিশ।'
পুলিশের এই তৎপরতা প্রসঙ্গে গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ বলেন, 'আইনত বহিরাগতদের থাকতে না-দেওয়ার কোনও বিষয় নেই। তবে আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের হাতে নির্দিষ্ট অ্যাপ রয়েছে। রুম ভাড়া নিলে সেই তথ্য ওই অ্যাপে আপলোড করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ম্যানুয়ালি তথ্য নিয়ে তা পাঠিয়ে দেওয়া হয় প্রশাসনের কাছে।'
পুলিশের ব্যাখ্যা, উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে পর্যটক, ব্যবসায়ী কিংবা কর্মসূত্রে যে কেউ এসে হোটেলে থাকতেই পারেন। তবে নির্দিষ্ট কারণ দেখাতে না-পারলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শহরে বহিরাগত ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। এ দিন দলের জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে শিলিগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব বলেন, 'দার্জিলিং মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে আমাদের দু'টো হোর্ডিং সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি জায়গায় বিজেপির ঝান্ডা না-থাকলেও একটি বিশেষ রঙের পোস্টার লাগানো হচ্ছে। অসম, বিহার থেকে বহিরাগতদের এনে শিলিগুড়ির হোটেলে রাখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে বিষয়গুলি জানিয়েছি। বোঝাই যাচ্ছে দলদাসের মতো কাজকর্ম চলছে।'
গৌতমের হুঁশিয়ারি, 'এরপরেও যদি পরিস্থিতির বদল না-হয়, তা হলে আমরাও হাতে চুড়ি পরে বসে থাকব না। উপযুক্ত জবাব দেবো।' পাল্টা গৌতমকে উদ্দেশ করে শিলিগুড়ির বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ বলেন, 'চুড়ি পরে বসে থাকা মানে তিনি কী বলতে চেয়েছেন আমি জানি না। যতদূর জানি ভারতীয় সংস্কৃতিতে মা-বোনেরা চুড়ি পরেন। তৃণমূল প্রার্থী কি মহিলাদের অসম্মান করতেই তাঁদের কমজোর বলার চেষ্টা করলেন?' বহিরাগত প্রসঙ্গে শঙ্করের বক্তব্য, 'শহরে বহিরাগতদের এনে বিজেপির গন্ডগোল পাকানোর প্রয়োজন নেই। অতীতে তাঁদের দল এসব করেছে কি না, তৃণমূল প্রার্থী আগে সেটা পরিষ্কার করে বলুন।'