এসআইআরের ফলে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৫ কোটি নাম বাদ, প্রশ্নের মুখে নির্বাচন প্রক্রিয়া
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১২ এপ্রিল ২০২৬
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে দাবি করা হয়েছিল, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক ‘অনুপ্রবেশকারী’ ভোটার তালিকায় রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে নাম বাদ পড়ার একটি বড়সড় লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল বাদ যাবে কোটির বেশি মানুষের নাম। তবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, প্রত্যাশিত সেই নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ না হলেও বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়।
নির্বাচন কমিশন একযোগে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই সংশোধন প্রক্রিয়া চালায়। চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট প্রায় ৫.১৮ কোটি ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছেন। যদিও পরবর্তীতে প্রায় ১.২৫ কোটি নতুন নাম যুক্ত হয়েছে, তবুও মোট ভোটার সংখ্যা ৫০.৯৭ কোটি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫.৮১ কোটিতে। অর্থাৎ, মোট ভোটারের ১০ শতাংশেরও বেশি নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে মাত্র প্রায় ৬৬.৮৮ লক্ষ ভোটারকে মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এত বিপুল সংখ্যক মৃত ভোটারের নাম এতদিন তালিকায় কীভাবে ছিল?
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি কম উদ্বেগজনক নয়। রাজ্যের ১৬টি জেলায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, প্রায় ৩৭ লক্ষের বেশি ভোটার কমে গিয়েছে। আগে যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ কোটি ৯৮ লক্ষ, তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লক্ষের কিছু বেশি। অর্থাৎ, এই জেলাগুলিতে ৪০ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে, যদিও নতুন করে যুক্ত হয়েছে মাত্র ৩ লক্ষের কিছু বেশি ভোটার।
এই বিপুল হারে নাম বাদ পড়া দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে। যদি এত সংখ্যক ভোটার অযোগ্য বা ভুয়ো হয়ে থাকেন, তাহলে এতদিন তারা কীভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন? আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই তালিকা ব্যবহার করেই সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলি সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বিরোধীদের তোলা ভোটচুরির অভিযোগ নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। পুরো ঘটনাপ্রবাহই নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর আস্থা ও তার কার্যকারিতা নিয়ে গভীর চিন্তার অবকাশ তৈরি করেছে।