সেই কালজয়ী চলচ্চিত্রের ৫০ বছর পার হওয়ার পরেও আজও চিরন্তন। তাই অসম প্রেমে মন দেওয়া কিশোরীকে বিয়ে করতে ‘শোলে’-র ‘বীরু’ হলেন পুরুলিয়া মফস্বল থানার রামপুর গ্রামের বাসিন্দা ২২ বছরের আব্বাস আনসারি। এ যেন সেই ‘শোলে’র রিমেক! একেবারে ‘বীরু’-র ঢঙেই রবিবার সাতসকালে পুরুলিয়া শহরের দুলমি ফর্টি কোয়ার্টারের পাশে একটি ৮০ ফুট জলট্যাঙ্কের উপরে চড়ে বসেন তিনি। সেখান থেকেই জানাতে থাকেন নিজের দাবি, বিয়ে দিতে হবে তাঁর সঙ্গে, না হলে মরণঝাঁপ!
ভোটের আবহে প্রশাসনিক চরম ব্যস্ততার মধ্যে এই ঘটনায় হুলস্থুল বেঁধে যায়। পুলিশ, দমকল সেই সঙ্গে সিভিল ডিফেন্স টিম হাজির হয়। অনেক অনুরোধেও প্রথমে মন গলেনি তাঁর। পুলিশ, দমকলের তৎপরতায় প্রায় ৪ ঘন্টা পর নাছোড় ‘বীরু’কে ওই ট্যাঙ্ক থেকে নামিয়ে উদ্ধার করা হল। তবে তিনি ছাড়া পাননি। এখন অবশ্য পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন ওই ‘বিয়েপাগলা’ যুবক। চলছে কাউন্সেলিংয়ের তোড়জোড়।
শহর পুরুলিয়ার রবিবারের এই ঘটনা একেবারে হুবহু ‘শোলে’ সিনেমার চিত্রনাট্য। পর্দায় থাকা রামগড়ের সঙ্গেও বাস্তবে ‘বীরু’ হওয়া আব্বাসের গ্রামের নামেও খানিকটা মিল পুরুলিয়া মফস্বলের রামপুরের। এই যুবক পুরুলিয়া শহরের উপকন্ঠে কাঁসাই নদী থেকে সাইকেলে বালি নিয়ে বিক্রি করে দিন গুজরান করেন। এই কাজের আসা যাওয়ার পথেই শিমুলিয়া সন্নিহিত এলাকায় এক কিশোরীকে মন দিয়ে বসেন তিনি। জড়িয়ে যান প্রেমে। বাড়িতে বলেন অসম প্রেমের কথা। এবং সোজাসাপ্টা জানিয়ে দেন তিনি ওই কিশোরীকে
বিয়ে করতে চান। কিন্তু মেয়ে যে নাবালিকা! তাই বেঁকে বসে পরিবার। কিন্তু ওই যুবক যে ওই কিশোরীকে জীবনসঙ্গী করার পণ করেন। হৃদয় জুড়ে যে শুধুই ওই কিশোরী। ফলে ঝামেলা শুরু হয় পরিবারে।
শনিবার রাতে সেই ঝামেলা চরম আকার নেয়। তাই ভোরবেলায় ঘর থেকে বেরিয়ে কাজে যাওয়ার পথেই দুলমি এলাকার ওই জলট্যাঙ্কে চড়ে বসেন তিনি। মুহূর্তেই এই খবর রটে যায়। তাঁর বাবা-মা চলে আসেন সেখানে। বাবা হাবিব আনসারি বলেন, “শনিবার রাতে আমরা এই নিয়ে কথা বলেছি। আমি আর ওর মা ওই বিয়েতে রাজি হয়েছি। কিন্তু এখন তো বিয়ে সম্ভব নয়। ছেলে যাকে মন দিয়েছে, সে তো নাবালিকা। কিন্তু ছেলে তো কথাই শুনছে না। তবে এমন ঘটনা পাকাবে ভাবতেই পারছি না। বিয়ে বিয়ে করে মাথার কিছু হয়ে গেল কি না বুঝতে পারছি না।” বিয়ে পাগলা যুবককে নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছে ওই পরিবার।
এদিন রবিবাসরীয় ভোট প্রচারে যখন সকাল থেকেই এলাকা সরগরম। তখন পুরুলিয়া শহরে ‘শোলে’ সিনেমার ওই আইকনিক দৃশ্য বাস্তবের মাটিতে দেখতে ভিড় জমে যায়। পুলিশ, দমকল, সিভিল ডিফেন্স থেকে উৎসাহী মানুষজন বারে বারে অনুরোধ করতে থাকেন ট্যাঙ্ক থেকে নামার জন্য। পুলিশ রীতিমতো ওই যুবককে বোঝাতে থাকে। কিন্তু সেই কথা কানে না তুলে বিয়ের দাবিতে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। এভাবেই কেটে যায় ৪ ঘন্টা। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে তাকে ৮০ ফুট উঁচু থেকে নামানো গেলেও পুলিশি নজরদারিতে থেকেও মাথা থেকে বিয়ের ভূত নামেনি ওই যুবকের!