সাপে কামড়েছিল ১৩-১৪ বছরের কিশোরটিকে। তাঁর পরিবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে দ্বারস্থ হন এক তান্ত্রিকের। তার পরে তান্ত্রিকের নিদান মেনে ওই কিশোরকে ১২ ঘণ্টার উপরে গঙ্গায় ডুবিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ। এর পরে যা হওয়ার তাই ঘটেছে।মৃত্যু হয়েছে ওই কিশোরের। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলার আদমপুর থানা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তান্ত্রিকের অদ্ভুত নিদান মেনে সাপের বিষ নামাতে ওই কিশোরকে একটি বাঁশের ভেলায় বেঁধে গঙ্গা নদীতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সে দাবি করেছিল, গঙ্গার জলে দীর্ঘক্ষণ থাকলে শরীর থেকে সাপের বিষ বেরিয়ে যাবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, বাঁশের ভেলাটির সঙ্গে একটি দড়ি বেঁধে সেটির সঙ্গে ওই কিশোরকে বেঁধে গঙ্গার জলে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই অবস্থায় অচৈতন্য কিশোরকে প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে ডুবিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ।
ভিডিয়োয় আরও দেখা গিয়েছে, নদীর পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। তবে তাঁরা কেউই ওই কিশোরকে বাঁচানোর চেষ্টা করেননি, বা অন্ধবিশ্বাস ভাঙার চেষ্টা করেননি। বরং তাঁদের সকলের কৌতূহল ছিল, সত্যিই গঙ্গার জল সাপের বিষ বের করে দিতে পারে কিনা, সেই বিষয়ে।
দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পরে কিশোরের কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে অবশেষে তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায় তার পরিবার। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপরে ওই কিশোরের মৃতদেহ ফের গঙ্গাতেই ভাসিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
নেটিজে়নদের একাংশ বলছেন, এই ঘটনা ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, ভারতীয় সমাজে আজও কুসংস্কার কতটা গভীরে শিকড় গেড়ে রয়েছে।