তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘কেশপুর হবে সিপিএমের শেষপুর।’ পশ্চিম মেদিনীপুরের এই বিধানসভা আসনে এখন বামেদের প্রভাব নেই বললেই চলে। কেশপুরের জামসেদ আলি ভবনে চেনা ভিড় অনেক আগেই অদৃশ্য হয়েছে। সেই এলাকায় মাথাচাড়া দিচ্ছে বিজেপি। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে সিপিএমকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল বিজেপি। সোমবার সেই কেশপুরে সভা করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আজকে আমি বলে যাচ্ছি, ২০২৬ সাল, এই কেশপুর কেন্দ্রে বিজেপির সরকারের শেষপুর। ২০২৯ সালের আগে কেন্দ্রীয় সরকার ভাঙবে।’ লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে বিজেপির থেকে কয়েকগুণ এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। এ বার বিধানসভায় গোটা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মধ্যে এই আসনে তৃণমূলকে রেকর্ড ব্যবধানে জেতার বার্তা দিলেন তৃণমূল সাংসদ।
কেশপুর বিধানসভা এলাকায় সিপিএম নেতৃত্বের একাংশ বর্তমানে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছে বলে এ দিন অভিযোগ করেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, ‘বাম আমলে কেশপুরে ধারাবাহিক ভাবে বিরোধীদের উপরে অত্যাচার করা হতো। যার নেতৃত্বে ছিলেন তরুণ রায়, ইমতিয়াজ আলি। প্রশাসন বলে কিছু ছিল না। সিপিএমের অন্যতম নেতা যাঁর নাম তন্ময় ঘোষ, তিনি এখন বিজেপির নেতা। তাঁর ভাই সুবীর ঘোষ বিজেপির নেতা। নতুন বোতলে পুরোনো মদ। জার্সি পাল্টে বাম থেকে রাম হয়েছে।’
রাজ্যে পালাবদলের পরেও ২০১১ সালে এই আসন জিতেছিলেন বাম প্রার্থী রামেশ্বর দোলুই। ২০১৬ সালে সেই চিত্র বদলায়। প্রায় এক লক্ষের বেশি ব্যবধানে জেতেন তৃণমূল প্রার্থী শিউলি সাহা। তবে দ্বিতীয় আসনে ছিল সিপিএম। ২০২১ সালে মাত্র ৬ শতাংশ ভোট পায় সিপিএম। বিজেপি একলাফে ৪২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। সিপিএমের বিশাল অংশের কর্মী, সমর্থক নেতৃত্ব বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন বলে এ দিন ইঙ্গিত দেন অভিষেক। তাঁর কটাক্ষ, ‘লাল রং একটু ফ্যাকাসে হয়ে গেলে গেরুয়া হয়ে যায়। এখন তাই হয়েছে, বামের রং ফিকে হয়ে গিয়ে গেরুয়া হয়েছে। এই মাটি তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্জয় ঘাঁটি। আগামী দিন ২৪-এর ব্যবধানকেও টপকে যেতে হবে।’
এ দিনের সভায় বেনাচাপড়া কঙ্কাল কাণ্ডের কথাও মনে করান অভিষেক। এই ঘটনায় অভিযুক্ত নেতা কৈলাস নায়েক, মহাদেব প্রামাণিকরা বর্তমানে বিজেপির ছত্রছায়ায়। তবে তৃণমূল সাংসদ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘যদি কেউ মনে করেন, সিপিএমের সেই অপশাসনকে ফিরিয়ে আনব, তাঁদের বলে যাচ্ছি এই কেন্দ্রে শিউলি বিশ্বাস এক লক্ষের বেশি ব্যবধানে জিতবেন। ৪ তারিখ ভোটবাক্স খোলার পরে রবীন্দ্র সঙ্গীতের সঙ্গে একটু ডিজেও বাজবে।’