বিধানসভা ভোটের আগেই তৃণমূলে যোগ দিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভ্রাতুষ্পৌত্র চন্দ্র বসু। বছর তিনেক আগেই তিনি বিজেপি ছেড়েছিলেন। শাসকদলে যোগ দিয়ে পদ্মশিবিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভও উগরে দেন চন্দ্র। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি করছে। ঘৃণা ছড়াচ্ছে।
রবিবার বিকেলে রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং বর্ধমানের তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজ়াদের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন নেতাজির পরিবারের সদস্য চন্দ্র। শাসক শিবিরে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ মানে না বিজেপি। ওই দলে থেকে নেতাজির আদর্শ নিয়ে কাজ করাও সম্ভব নয়। বিজেপি এখন বিভাজনের রাজনীতি করে। ঘৃণা ছড়ায়। ভারতকে বাঁচাতে এবং বিভেদের রাজনীতিকে রুখতে তৃণমূলে যোগ দিলাম। লড়াই করতে হবে আমাদের।’
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন চন্দ্র। ওই বছরের ভোটে ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থীও হয়েছিলেন। এর পর ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন চন্দ্র। কিন্তু কোনও ভোটেই তিনি জেতেননি। এর পর থেকেই বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। শেষমেশ ২০২৩ সালে দল থেকে ইস্তফা দেন চন্দ্র।
বিজেপি ছাড়ার পর থেকেই চন্দ্রের তৃণমূলে যোগদানের জল্পনা শুরু হয়। সেই জল্পনা আরও জল-বাতাস পায় মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নিয়ে তাঁর কিছু প্রশংসাসূচক মন্তব্যে। সম্প্রতি এসআইআর শুনানিতেও ডাক পড়েছিল নেতাজির ভ্রাতুষ্পৌত্রর। তা নিয়ে বিতর্কও হয় রাজ্য-রাজনীতিতে। এর পর গত ২৭ মার্চ সমাজমাধ্যমের পোস্টে চন্দ্র লিখেছিলেন, তাঁর বিজেপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক ভুল ছিল। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘কোনও দলের উদ্দেশ্য যদি হয় নির্বাচনে জেতার জন্য ভোটারদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা, তা হলে তা আমার পক্ষে মানা সম্ভব নয়!’ তার দিন ১৫ পরেই তৃণমূলে যোগ দিলেন চন্দ্র।