সৌমেন রায় চৌধুরী
বছর দুই আগে সন্দেশখালির আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছিলেন রেখা পাত্র। সে বছর লোকসভা ভোটে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। আর সেই প্রার্থীর নাম দিল্লি থেকে ঘোষণা করেছিলেন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী। রেখার নাম ঘোষণার পর থেকে বসিরহাট কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল ২৪-এর লোকসভা ভোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। শাহজাহান-বিরোধী আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠলেও, ভোটের ময়দানে তার ডিভিডেন্ড রেখা ঘরে তুলতে পারেননি। জয় হয় তৃণমূলেরই। সেই রেখা ২০২৬-এও বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হয়েছেন। তবে দল তাঁকে সন্দেশখালিতে টিকিট দেয়নি, এ বার লড়ছেন হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভা থেকে।
চৈত্রের শেষবেলায় চিড়বিড়ে গরম বাড়ছে। দোসর ভোটের উত্তাপ। উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন দুর্গম এলাকা হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে ২০২৬ সালের নির্বাচনী লড়াই হাড্ডাহাড্ডি। তফসিলি জাতি (SC) সংরক্ষিত এই কেন্দ্রে এক সময়ে বামফ্রন্টের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও বর্তমানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। দুই ফুলের লড়াই।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী দেবেশ মণ্ডল। তিনি ১,০৪,৭০৬ ভোট পেয়ে বিজেপির নিমাই দাসকে ২৪,৯১৬ ভোটে পরাজিত করেন। বিজেপি প্রার্থী পান ৭৯,৭৯০ ভোট। ভোটের হিসেবে তৃণমূল পায় ৫৪ শতাংশ এবং বিজেপি ৪১ শতাংশ ভোট পায়। সিপিআই প্রার্থী রঞ্জন মণ্ডল পান ৬,০০৮ ভোট এবং নোটা পায় ১,৭৩৬ ভোট। এর আগে ২০১৬ সালেও এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন দেবেশ মণ্ডল।
যদিও পর পর দু’বারের বিধায়ক দেবেশকে নয়, এ বার তৃণমূল প্রার্থী করেছে আনন্দ সরকারকে। বিজেপি প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সন্দেশখালির রেখা পাত্র। অন্যদিকে সিপিআইএম-এর প্রার্থী সৌমেন হালদার এবং কংগ্রেসের প্রার্থী বিশ্বজিৎ রায়।
২০২৪ সালে রেখা পাত্র বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্র থেকে যখন ভোটে লড়েন, একেবারে আনকোড়া মুখ ছিলেন রাজনীতির ময়দানে। তবে, সে বার বিজেপি ৪ লক্ষ ৭০ হাজার ২১৫ ভোট পায়। যেখানে তৃণমূলের হাজি নুরুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৮ লক্ষ ৩ হাজার ৭৬২টি ভোট। যদিও তাঁর মৃত্যুর পরে এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়। তৃণমূলই জেতে সেই ভোটও।
ভৌগোলিক দিক থেকে হিঙ্গলগঞ্জ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। বসিরহাট মহকুমার অন্তর্গত এই ব্লকটি সুন্দরবনের উত্তর প্রান্তে এবং বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। কৃষি কাজ, মাছ ধরা, কাঁকড়া সংগ্রহ এবং বনজ সম্পদের উপরে নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করেন অধিকাংশ মানুষ।
অনিয়মিত বিদ্যুৎ, নানা প্রতিকূলতা, ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। ফলে উন্নয়ন, যোগাযোগ এবং জীবিকার নিরাপত্তা— এই তিনটি বিষয়ই এ বারের নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস যে জায়গা করে নিয়েছে, তা ধরে রাখাই এ বার তাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্য দিকে, বিজেপি গত নির্বাচনে ব্যবধান কমিয়ে আনার পরে এ বার জয়ের জন্য ঝাঁপাচ্ছে। কে লক্ষ্যভেদ করতে পারে, ৪ মে তা জানা যাবে।