• প্রেমিকা ‘কথা রাখেনি’, ট্যাঙ্ক থেকে ঝাঁপের চেষ্টা যুবকের, ত্রাতা হলেন সাংবাদিক
    এই সময় | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • এ যেন শোলে সিনেমার দৃশ্য। বাসন্তীকে না পেয়ে রামগড়ের সেই বিশাল জলের ট্যাঙ্কের উপরে উঠে বীরুর দাপাদাপি। পুরুলিয়া শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডেও সেই ছবিই দেখা গেল রবিবার। প্রেমের বিচ্ছেদ সইতে না পেরে নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন এক যুবক। পুরসভা পরিচালিত একটি জলের ট্যাঙ্কে প্রায় ৬০ ফুট উপরে উঠে পড়েন তিনি। পাঁচ ঘণ্টা রুদ্ধশ্বাস নাটকের পরে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সাংবাদিক আসিফ আনসারি তাঁকে রক্ষা করেন।

    পুরুলিয়া টামনা থানা এলাকায় বাড়ি ওই যুবকের। গ্রামেরই এক যুবতীকে ভালোবাসেন। দীর্ঘদিনের সেই সম্পর্কে হঠাৎ বিচ্ছেদ ঘটায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। অভিমানে আত্মহননের পথ বেছে নিতে শহরের ওই উঁচু জলের ট্যাঙ্কে উঠে পড়েন। এ দিকে সিঁড়িতে তাঁকে বসে থাকতে দেখে খবর দেওয়া হয় টামনা থানায়। বিশাল টিম এসে হাজিরও হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে খবর দেওয়া হয় দমকল বাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে।

    এ দিকে খবর ছড়াতেই সেখানে হাজির হতে শুরু করেন সাংবাদিকরাও। ওই সাংবাদিকও খবর সংগ্রহে সেখানে পৌঁছন। কোনও ভাবেই ওই যুবককে বাগে আনা যাচ্ছিল না। ভাঙা হৃদয় নিয়ে যা কিছু করে ফেলবেন, এমনই একটা পরিস্থিতি। এ দিকে নীচে দাঁড়িয়ে কান্নাকাটি করছেন যুবকের বাবা ও ভাই।

    এই অবস্থায় বাবার ফোন নিয়ে ওই যুবককে ফোন করেন সাংবাদিক। নামার অনুরোধ জানালে জবাব আসে, আগে প্রেমিকাকে আনতে হবে। তবেই তিনি নেমে আসবেন। অন্যথা হলে উপর থেকে ঝাঁপ দেবেন।

    বিপর্যয় মোকাবিলা দল কাজ শুরু করার আগেই ওই সাংবাদিক যুবককে আশ্বস্ত করে বলেন, আমি একা উপরে আসছি, ‘আমার সঙ্গে কেউ যাবে না। তুমি শান্ত হও।’ সাংবাদিকের কথায় যুবক কিছুটা নরম হয়ে কথা বলতে রাজি হন। এর পরেই ওই সাংবাদিক জলের ট্যাঙ্কে ওঠেন। বুঝিয়ে নীচে নামতে রাজি করান।

    ছেলেকে নেমে আসতে দেখে ভয়ে আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েন যুবকের বাবা। ওই সাংবাদিকের দু’ হাত ধরে কেঁদে ফেলেন। ছেলের চোটও যে বিষম, তা-ও বুঝেছেন বাবা। বুঝিয়ে ঘরে নিয়ে যান ছেলেকে।

  • Link to this news (এই সময়)