মিল্টন সেন: "বিপুল সংখ্যায় মানুষের উপস্থিতি, মা বোনেদের অংশগ্রহণই প্রমাণ করছে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ভোটে জিতছে। আঠেরো-শূন্য হবে হুগলির ফলাফল।" রবিবার হুগলির সাহাগঞ্জের ডানলপ কারখানা ময়দানে আয়োজিত সভায় এই কথা বলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি।
এদিন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ডানলপ কারখানার ময়দানে বিজেপির বিসর্জনের খুঁটি পুজো করে দিয়ে গেলেন। তাঁর "দশমীর বিসর্জনটা আগামী ৪ মে হবে।" অভিষেক বলেছেন, "এই নির্বাচনে শুধু মাত্র তৃণমূল প্রার্থীদের জেতানোর নির্বাচন নয়।"
হুগলি নিয়ে কেন এত আত্মবিশ্বাসী তৃণমূলে 'সেকেন্ড ইন কামান্ড'? অভিষেক ব্যানার্জির কথায়, "২০২১ সালের নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী শুধু মাত্র আরামবাগ মহকুমার চার আসন হাতছাড়া হয়েছিল তৃণমূলের। জেলার ১৮ আসনের মধ্যে আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট, পুরশুরা ছাড়া বাকি ১৪ আসনে তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছিল। গত সপ্তাহে খানাকুলে সভা করেছি। সভা ছিল বিকেল চারটে থেকে। যেতে দেরি হয়েছিল। কিন্তু সেখানে বেলা এগারোটা থেকে মানুষ অপেক্ষা করছিল। এবার ওই চার আসনে এবার তৃণমূল কংগ্রেস জিতবে। জোড়া ফুল ফুটবে। জেলার বাকি আসনগুলো থেকে এমনভাবে জবাব দিতে হবে, যাতে আগামীদিনে বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার আগে বিজেপি যেন একশবার ভাবে। আজকে যেভাবে গরিব মানুষের একশ দিনের টাকা,বাড়ির টাকা, গ্রামীণ রাস্তার টাকা, জল জীবন প্রকল্পের টাকা ওরা আটকেছে।"
বিজেপির 'সংকল্প পত্র' প্রকাশ করা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে কটাক্ষ করে অভিষেক ব্যানার্জীর বলেছেন, "কয়েকদিন আগে অমিত শাহ বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করে বলেছেন, ক্ষমতায় এলে মহিলাদের নাকি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেবেন। আমি আজ আমার এক্স হ্যান্ডেলে একটা ভিডিও পোস্ট করেছি। সেখানে দেখবেন, বিজেপি নির্বাচনের আগে বিহারের মায়েদের ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছিল, নির্বাচনের পর তাঁদের বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরৎ চাওয়া হচ্ছে। না দিলে বুল ডোজার চালিয়ে তাঁদের বাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই হচ্ছে বিজেপির আসল স্বরূপ।"
কেন্দ্রীয় স্বারাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিষেকের চ্যালেঞ্জ, "অমিত শাহ বলেছেন বাংলায় তারা ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার হবে। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, দেশের দশ থেকে বারোটি রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে। ত্রিপুরা, অসম, বিহার, রাজস্থান, অরুণাচল, গুজরাট, গোয়া, ছত্তিশগড়, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশে বিজেপি ক্ষমতায়। মমতা ব্যানার্জির সরকার রাজ্যে ২ কোটি ৪২ লক্ষ মানুষকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছেন। পরিবারে একজন থাকুক বা পাঁচজন সবাই পেয়েছে। যদি বিজেপির অন্য কোনও মুখ্যমন্ত্রী এটা করে দেখাতে পারেন, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব, রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় নেব।"
ভোটারদের অভিষেকের পরামর্শ, "ভোট চাইতে এলে বিজেপি প্রার্থীর কাছে জানতে চাইবেন, ২০১৯ থেকে ২০২৪ বিজেপি সাংসদ ছিল হুগলি লোকসভায়। কি কাজ করেছে তাঁর হিসেব দিতে হবে। যদি বিজেপির দেখাতে পারে গত পাঁচ বছরে কোনও একটা গরিব মানুষের বাড়ির জন্য পাঁচ পয়সা দিয়েছে, তাহলে আমি হুগলিতে আর কোনও দিন ভোট চাইতে আসবো না। বিজেপি প্রমাণ করুক ২০২১ সালে বাংলায় হারার পর বিজেপি একটাও মানুষকে একশ দিনের টাকা পৌঁছে দিয়েছে। আমি তৃণমূলের হয়ে ভোট চাইতে আসব না।"
সপ্তগ্রাম বিধানসভায় প্রতিমাসে ৬৮ হাজার এবং চুঁচুড়া বিধানসভায় ৭৮ হাজার মা দিদি রা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান। এখানে মোদি সরকারের এক টাকাও নেই বলে দাবি অভিষেকের। তাঁর কথায়, "কথায় আছে, স্যাকরার ঠুক ঠাক, কামারের এক ঘা। আপনারা সেই এক ঘা মারার সুযোগ পাবেন আগামী ৪ মে। মমতা ব্যানার্জির অঙ্গীকার চতুর্থবার বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠিত হওয়ার পর সবাই আজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন। এটা আপনাদের প্রাপ্য। আপনাদের অধিকার। আফগানিস্তানের তালিবান আর বিজেপির মধ্যে কোনও তফাত নেই। তালিবানরা গৌতম বুদ্ধের মূর্তি ভাঙে, বিজেপির গুন্ডারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অসন্মান করে। স্বামী বিবেকানন্দকে বামপন্থী প্রোডাক্ট বলে। আমাদের বাংলাদেশি বলে। কেনও? আমরা বাংলায় কথা বলি বলে।"
আদিবাসী ভোট বিবেচনা করে অভিষেকের দাবি, "তফসিলি মহিলাদের উপর সব থেকে বেশি অত্যাচার হয়েছে উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশে। মহিলাদের উপর সবথেকে অত্যাচারের ক্ষেত্রে গোল্ড, সিলভার, ব্রোঞ্জ মেডেল বিজেপির। মিথ্যা বললে আমাকে জেলে ঢুকিয়ে দিক।"
সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রতিবাদ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক বলেছেন, "বাংলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন।"
এ দিন অভিষেকের মুখে জিতে এলে কী করবেন সেকথা শোনা যায়। তিনি বলেন, "আমাদের প্রতিজ্ঞা প্রত্যেক বাড়িতে নলবাহি পানীয় জলের ব্যবস্থা করা। দুয়ারে স্বাস্থ্য শিবির, যোগ্যদের বার্ধক্য ভাতা প্রদান। বিজেপি টাকা দিক না দিক। এছাড়া সবার মাথার উপর ছাদ। সবার ব্যাঙ্ক একাউন্টে বাড়ির টাকা পৌঁছবে।"
এদিন জনসভায় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ রচনা ব্যানার্জি, বলাগড়ের তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন ধারা, চাপদানীর প্রার্থী অরিন্দম গুইন, সপ্তগ্রামের প্রার্থী বিদেশ বোস, চুঁচুড়ার প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য, ধনেখালীর প্রার্থী অসীমা পাত্র, জাঙ্গিপাড়ার প্রার্থী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী। ছিলেন বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদারও।