রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মুখেই তৃণমূলে যোগ দিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসু। রবিবার তৃণমূল ভবনে দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন তিনি। অতীতে, বিজেপি ভবানীপুর থেকে তাঁকে প্রার্থী করেছিল। চন্দ্র বসু পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সহ-সভাপতিও ছিলেন।
রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং সাংসদ কীর্তি আজাদ রবিবার চন্দ্র বসুর হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেন। এর আগে চন্দ্র বসু ২০১৬ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ওই বছরের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা আসন থেকে ভোটে লড়েন তিনি। কোনও বারই অবশ্য জয়ের মুখ দেখেননি তিনি। তার পর থেকে অবশ্য নানা বিষয়ে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে।
এদিন বিধানসভা ভোটের মুখে রাজ্যের শাসক দলে যোগ দিয়ে চন্দ্র বসু একবাক্যে স্বীকার করে নেন, তাঁর বিজেপিতে যোগদান ভুল ছিল। চন্দ্র বসু বলেন, 'ওরা ভারতের সংবিধানের বিরোধিতা করে।' তাঁর কথায়, 'বিভাজনের রাজনীতির বিরোধিতা করতে এই মুহূর্তে নেতাজির 'ভারতবর্ষ' ভাবনা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।' চন্দ্র বসুর অভিযোগ, বিজেপিতে যোগ দিয়ে বাংলার জন্য একাধিক প্রস্তাবও রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু তা গৃহীত হয়নি। চন্দ্র বোস বলেন, 'শরৎচন্দ্র বোস এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের আদর্শেই আমার রাজনীতি। বিজেপি আশ্বাস দিলেও তা সম্ভব হয়নি।'
এর আগে এসআইআরের শুনানিতে ডাক পাওয়ার পরই কার্যত কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলের প্রতি মোহভঙ্গ হয়েছিল চন্দ্র বসুর। প্রশ্ন তুলেছিলেন, নেতাজির মতো দেশনায়কের প্রপৌত্র হওয়ার পরও কি তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে সংশয় তৈরি হয়? সম্প্রতি একাধিক বার মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা শোনা গিয়েছে চন্দ্র বসুর গলায়। গত ২৭ মার্চ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে চন্দ্র বসু জানিয়েছিলেন, তাঁর বিজেপিতে যোগদান করার সিদ্ধান্ত ‘ঐতিহাসিক ভুল’ ছিল। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, 'কোনও দলের উদ্দেশ্য যদি হয় নির্বাচনে জেতার জন্য ভোটারদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা, তা হলে তা আমার পক্ষে মানা সম্ভব নয়!'এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ে শামিল হওয়ার জন্য ঘাসফুলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন তিনি।