ভোটে নির্বাচনে গুলি, বোমাবাজি! বিজেপিশাসিত ত্রিপুরায় দেদার হিংসা, অভিযোগ কমিশনে
প্রতিদিন | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
গুলি, বোমাবাজির মতো হিংসাত্মক ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হল ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদের নির্বাচন। ২৮ আসনের স্বশাসিত জেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোটার সাড়ে আট লক্ষের উপর। ভোট পড়েছে ৭০% এর উপর। নির্বাচনে বিজেপির শরিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে তিপরা মথা ও বিজেপির সংঘাত চলে দফায় দফায়। আহত বেশ কয়েকজন। সবমিলিয়ে, বিজেপিশাসিত ত্রিপুরায় ভোটের মধ্যেও পড়ল হিংসার ছায়া।
রবিবার ছিল ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল নির্বাচন। ভোট ঘিরে রবিবার রাজ্যজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। তা সত্ত্বেও সম্পূর্ণভাবে হিংসা এড়ানো যায়নি। বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকটি অঞ্চলে। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও একাধিক স্থানে সংঘর্ষ, হামলা ও ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে।
সকালে ভোটগ্রহণ পর্ব তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়। কিন্তু বেলা গড়াতেই ছবিটা পালটাতে থাকে। দুপুরের পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে সংঘর্ষের রূপ নেয়। কোথাও ভোটারদের ভয় দেখানো, কোথাও বা বুথ দখলের চেষ্টার অভিযোগ সামনে আসে, যা প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলগুলি নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে সরব হয়েছে। সমালোচক মহলও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি উঠেছে, যারা আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে এবং হিংসার সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সার্বিকভাবে, নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও এডিসি নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা ও বিতর্ক রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও তপ্ত করে তুলেছে।
উল্লেখ্য, ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে ২৮ টি আসনের মধ্যে সবকটিতে একাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিজেপি। তিপরা মথার সঙ্গে জোট ভেঙে যাওয়ার ফলে একাই লড়ছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির দাবি তারা এবার এককভাবে ত্রিপুরায় একক ভাবে জেলা পরিষদ দখল করবে। তিপরা মথার বেশ কয়েকজন নেতাও যোগ দিয়েছেন গেরুয়া শিবিরে।