গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে উঠেছিল নাম, আশার কোন রেকর্ড আজও কেউ ভাঙতে পারেননি?
এই সময় | ১২ এপ্রিল ২০২৬
তাঁর কণ্ঠে জাদুর ছোঁয়া। একঝাঁক সুপারহিট গানের সম্ভার তাঁকে করে তুলেছে ‘মেলোডি কুইন’। সেই সুরের আকাশের অন্যতম নক্ষত্র পতন। প্রেম, রোম্যান্স থেকে বিরহ-- দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে হাজার হাজার গানে শ্রোতাদের মন কেড়েছেন আশা ভোঁসলে। তবে অনেকেরই অজানা কেরিয়ারে প্রায় বারো হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন আশা। যা তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক গান রেকর্ড করা গায়িকাদের একজন করে তুলেছিল।
আর.ডি. বর্মনের সঙ্গে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, সঙ্গীত জগতেও বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন আশা। ‘দম মারো দম’ কিংবা ‘পিয়া তু আব তো আজা’র মতো গানে তাঁর কণ্ঠে চমকে দিয়েছিল শ্রোতাদের। তবে শুধু পঞ্চমের সঙ্গেই নয়, ওপি নায়ার থেকে শচিন দেব বর্মনের সুরেও তিনি উপহার দিয়েছেন একের পর এক কালজয়ী গান। কিশোর কুমারের সঙ্গে তাঁর ডুয়েটের ভক্ত প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
সাল ১৯৪৩। মাত্র ১০ বছর বয়সে প্রথম প্লেব্যাক আশা ভোঁসলের। মারাঠি ছবি ‘মাজা বাল’-এর জন্য ‘চলা চলা নব বালা’ গানটি গেয়ে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পথচলা শুরু তাঁর। এর পরে ১৯৪৮ সালে ‘চুনারিয়া’ সিনেমার ‘সাওয়ান আয়া’ গানের মাধ্যমে তিনি হিন্দি প্লেব্যাকের দুনিয়ায় পা রাখেন। ১৯৮১ সালের ‘উমরাও জান’ ছবিতে ‘ইন আঁখো কি মস্তি’ থেকে ‘তিসরি মঞ্জিল’-এর ‘ও মেরা সোনা রে’-তে চোখধাঁধানো পারফর্ম্যান্স আশার।
‘নাচ ময়ূরী নাচ রে’ থেকে শুরু করে ‘মহুয়ায় জমেছে আজ’— বাঙালি শ্রোতাদের হৃদয়ে তিনি পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছেন। হিন্দি এবং বাংলা ছাড়াও মারাঠি, গুজরাটি, তামিল, এমনকি ইংরেজি ভাষায়ও গান গেয়েছেন। ২০টিরও বেশি ভাষায় ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়ে তিনি নাম তুলেছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। বলিউডের প্রায় সব প্রথমসারির অভিনেত্রীর সিনেমায় কণ্ঠ দিয়েছিলেন আশা ভোঁসলে।
ভারতের বিভিন্ন ভাষায় অজস্র চলচ্চিত্র ও অ্যালবামের জন্য অসংখ্য গান রেকর্ড করে বহু পুরস্কার পেয়েছেন আশা ভোঁসলে। তিনি সম্মানিত হয়েছেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে। ২০০৮ সালে পেয়েছেন পদ্মভূষণ। এ ছাড়া, ১৯৯৭ সালে গ্র্যামির জন্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে অন্যতম, ‘পিয়া তু অব তো আজা’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুম নে জো দিল কো’, ‘এক পরদেশি মেরা দিল লে গ্যায়া’, ‘ইন আঁখো কি মস্তি’, ‘তুমসে মিলকে’, ‘জওয়ানি জানে মন’।