'আমার তো কণ্ঠ চলে গেল, আশাজী না থাকলে দেবশ্রী রায় হতেই পারতাম না'
আজকাল | ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্রয়াত আশা ভোঁসলে। ৯২ বছর বয়সে মুম্বইয়ে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুরসম্রাজ্ঞী। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিল্পী থেকে অনুরাগী সকলের মনে।
আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে. "আশাজী না থাকলে, উনি আমার জন্য গান না গাইলে আমি দেবশ্রী রায় হতেই পারতাম না। উনি ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ। ঈশ্বরের অসীম আশীর্বাদ, বাংলা চলচ্চিত্রের অধিকাংশ গান উনি আমাকে উপহার দিয়েছেন। কোনটা ছেড়ে কোনটা বলব! এখনও শো-তে গেলে আশাজীর গান গাই ।"
দেবশ্রী আরও বলেন, "ছোটবেলায় আমি আর আমার দিদি রুমকি ঝুমকি আমরা নাচতাম। কিশোর কুমার বা মহম্মদ রফি নাইট হত। আর ডি বর্মন আশা ভোঁসলে নাইট হত, আমাদের ছাড়া কোনও অনুষ্ঠান হত না। আর ছিলেন কৃষ্ণা রায় মানে রানি মুখার্জির মা। কৃষ্ণা রায় মহম্মদ রফির ফিমেল সিঙ্গার ছিলেন। তাই সবসময় বুকিং থাকত। আমাকে একদিন বললেন, রুমকি আমি একটা গান গাইব তুমি নাচবে? আমি তো আনন্দে আত্নহারা। নাচব না মানে? আশাজি গাইলেন 'কিনে দে রেশমি চুরি', আমি নাচলাম।"
দেবশ্রী আরও বলেন, "আমরা ছোটবেলায় অপেক্ষা করতাম পুজোর গানের জন্য। তখন আশা লতা কিশোর মানে একটা আলাদাই ব্যাপার। তারপর যখন জানলাম ত্রয়ীতে আশাজি গাইছেন আমার জন্য আমি আনন্দে দু'দিন ঘুমোতে পারিনি। আরও কাছাকাছি, জানা অজানা কত গান বলব। আমার বাণিজ্য সফল ছবি ত্রয়ী। ত্রয়ীর জন্য আমি হিট হয়েছি। উনি না গাইলে আমি হয়তো কর্মাশিয়াল সিনেমার নায়িকা হতেই পারতাম না। আর কত রাত একা থাকব, আজনামি অচেনা যে, কী সব গান!"
"ওঁর এক অসম্ভব গুণ ছিল। পরিচালক ফোন করলে আগেই জানতে চাইতেন, কার জন্য গাইছি? নায়িকা বুঝে তিনি গানকে সাজাতেন। আমার একটা অংশ চলে গেল। ঈশ্বরের দান ছাড়া এমন শিল্পীর জন্ম তো হয় না। জানি বয়স হয়েছে, অসুখ করেছে কিন্তু সবটা জানার পরেও মানতে পারছি না যে আশাজি নেই।"
"উনি বিচারক হিসাবে এসেছিলেন, আমি সেখানে বিশেষ অতিথি। আশাজির সঙ্গে দেখা হবে ভেবেই আমি ওঁর জন্য একটা শাড়ি কিনলাম। দেখা হতেই প্রণাম করে সেই শাড়িটা দিলাম। ওঁর এত পছন্দ হয়েছিল যে পরের বার এসে বলেছিলেন, দেবশ্রী কোন দোকান থেকে শাড়ি কিনেছে সেই দোকান থেকে আমি আরও শাড়ি কিনব। ট্রাঙ্গায়ুলার পার্কের একটা ছোট্ট দোকান সেখানে পরে আমি গিয়ে দেখি বড় বড় করে আশাজির ছবি টাঙানো। তখন জিজ্ঞেস করে জানতে পারি আমার দেওয়া শাড়ির বাক্স থেকে ঠিকানা নিয়ে গিয়েছিলেন দোকানে। এত শৌখিন মানুষ ছিলেন।"
"আর কত রাত একা থাকব সেই সময় আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। এখনও পুজোর প্যান্ডেলে বাজে। এত বছর পরেও এই গান মানুষ পছন্দ করেন। আজ আমি অচেনা যে, মনের নাম মধুমতী এসব গান কাল্ট।"
দেবশ্রী আরও বলেন, "তখন ট্র্যাক ছিল না। লাইভ অর্কেস্ট্রা, মাঝে একটা ছোট ভুল হলেও আবার নতুন করে শুরু করতে হত। এত দক্ষতা এমন মুন্সিয়ানা ভাবা যায় না। নিজের ভুল হলেও নিজেই বলতেন, ভাল হয়নি আর একবার গাইব। এগুলো দেখেছি চোখের সামনে।"
শঙ্খচূড় ছবিতে আশাজির গানের জন্য রীতিমতো যুদ্ধ করেছিলেন দেবশ্রী রায়। জানালেন আজকাল ডট ইনকে। তিনি বলেছিলেন, " আশাজি না গাইলে আমি এই গানে লিপ দেব না। ফ্লোরে যাবই না।"
দেবশ্রীর সংযোজন, "এত কষ্ট হচ্ছে, আমার কেরিয়ারে ওঁর অবদান বলে শেষ করা যাবে না। আমি খবরটা পাওয়ার পর কেঁদে ফেলেছি। আমি প্রার্থনা করি আবার যেন উনি আশা ভোঁসলে হয়েই জন্মান।"