আশা ভোঁসলেকে কেন ‘ডন’ বলে ডাকতেন কিশোর কুমার? প্রকাশ্যে এল এক মিষ্টি লড়াইয়ের কাহিনি
আজকাল | ১২ এপ্রিল ২০২৬
সুর হারিয়েছে ভারত। ৯২ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন হলেন ‘মেলোডি কুইন’ আশা ভোঁসলে। মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আশীষ শেলার এই দুঃসংবাদ নিশ্চিত করেছেন। সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত তাঁর দেহ শায়িত থাকবে তাঁর বাসভবনে, এরপর বিকেল ৪টেয় শিবাজি পার্কে সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য। এই মহাপ্রয়াণের দিনে ফিরে দেখা যাক কিশোর কুমারের সঙ্গে তাঁর সেই ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের অজানা কিছু অধ্যায়।
এক সাক্ষাৎকারে আশা জানিয়েছিলেন, কেরিয়ারের শুরুতে কিশোর কুমারকে তিনি যমের মতো ভয় পেতেন। ‘মুকাদ্দর’ ছবির একটি গানে ‘এক, দো, তিন’ বলতে গিয়ে মারাঠি টানে আশা বলে ফেলেছিলেন ‘দোন’। ব্যস! সেই থেকে কিশোর কুমার তাঁর নাম দিয়েছিলেন ‘ডন’। আশা বলেছিলেন, "উনি কোরাস গায়কদের নিয়ে দল পাকিয়ে আমায় খ্যাপাতেন। পরে যখন আমি পাল্টা জবাব দিতে শুরু করলাম, উনি হেসে বললেন—তুই তো খুব পাকা! সেই থেকে আমাদের বন্ধুত্ব।” পরবর্তীতে এই জুটি উপহার দিয়েছে ‘এক ম্যায় অউর এক তু’ বা ‘হাল ক্যায়সা হ্যায় জনাব কা’-র মতো কালজয়ী গান।
আজ যে কণ্ঠ বিশ্ববন্দিত, কেরিয়ারের শুরুতে সেই কণ্ঠকেই বাতিল করে দিয়েছিলেন জনৈক রেকর্ডিস্ট রবিন চট্টোপাধ্যায়। আশা স্মৃতিচারণা করে জানিয়েছিলেন, সঙ্গীত পরিচালক খেমচাঁদ প্রকাশের তত্ত্বাবধানে রেকর্ডিং করতে গিয়ে রবিন বাবু সোজাসাপ্টা বলে দেন, "এদের দিয়ে হবে না, অন্য শিল্পী ডাকুন।” ক্ষুধার্ত ও অপমানিত আশা ও কিশোর সেদিন মহালক্ষ্মী স্টেশনে বসে চা-বিস্কুট খেয়ে নিজেদের সান্ত্বনা দিয়েছিলেন।
কয়েক বছর পর যখন আশা ও কিশোর দুজনেই মহাতারকা, তখন কাকতালীয়ভাবে সেই একই রেকর্ডিস্টের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়। কিশোর কুমার ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন এবং ওই রেকর্ডিস্টের কাজ কেড়ে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আশা তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, "কারও মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া ঠিক নয় দাদা, সেদিন হয়তো আমাদের সময়টাই খারাপ ছিল।" প্রতিহিংসার বদলে এই ক্ষমাশীল মানসিকতাই আশাকে অনন্য করে তুলেছিল।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করে ঘর ছেড়েছিলেন আশা। সেই কঠিন সময় পার করে তিনি পরে আর.ডি. বর্মনের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেন। তাঁদের এই সৃজনশীল জুটিই ভারতীয় চলচ্চিত্রের সঙ্গীতকে এক আধুনিক রূপ দিয়েছিল। আজ সেই সুরের জাদু চিরতরে নীরব হলেও, ‘দম মারো দম’ বা ‘চুরা লিয়া হ্যায়’-এর মতো হাজারো গানের মাঝে তিনি অমর হয়ে থাকবেন।