বিহারে ভোটের আগে দেওয়া ১০ হাজার টাকা ফেরত চেয়ে নোটিস! ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে বিতর্ক
বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
পাটনা: বিহারে নির্বাচনের আগে মহিলাদের ১০ হাজার টাকা দিয়েছিল নীতীশ সরকার। আর ভোটপর্ব মিটতেই সামনে এল এনডিএ’র জুমলা। কারণ ইতিমধ্যে সেই টাকা ফেরত চেয়ে অনেকের কাছেই নোটিস পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় এক সাংবাদিকের পোস্ট করা ভিডিয়োতে সামনে এসেছে গোটা বিষয়টি। ‘বর্তমান’ অবশ্য ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি। ওই গ্রামের মহিলারা টাকা ফেরত দেওয়ার বদলে নিজেদের ভোট ফেরত চেয়েছেন। যা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের আগে, গত সেপ্টেম্বর মাসে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’র সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিহারে প্রত্যেক পরিবারের একজন মহিলাকে ১০ হাজার টাকা করে সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করে নীতীশ সরকার। ভোটের ঠিক আগে ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি)-র মাধ্যমে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। যা নিয়ে বিরোধীরা নীতীশ কুমারের সরকারের দিকে আঙুল তুলেছিল। বলা হয়, ভোটারদের প্রভাবিত করতেই এভাবে টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভোটপর্ব মিটতেই সামনে এসেছে বাস্তব চিত্রটি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, একটি গ্রামের প্রায় ১২-১৪টি পরিবারের কাছে সরকারের তরফে নোটিস পাঠিয়ে টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। এই নোটিস পেয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁরা জানিয়েছেন, যদি সরকারের দেওয়া ১০ হাজার টাকা ফেরত দিতে হয়, তাহলে তাঁদের দেওয়া ভোট সরকারকে ফিরিয়ে দিতে হবে। এক মধ্যবয়সি মহিলা বলেন, আমরা টাকা পেয়েছিলাম। তাই আমরা ভোট দিয়েছিলাম। এখন যদি সেই টাকা ফেরত দিতে হয়, তাহলে আমাকে আমার ভোটও ফিরিয়ে দিতে হবে নরেন্দ্র মোদিকে। অপর এক মহিলা জানান, গ্রামের দরিদ্র মানুষজন সেই টাকা আগেই খরচ করে ফেলেছেন। এখন কীভাবে সেই টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব!
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটারদের মন জয়ের জন্যই নির্বাচনের মুখে অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচন মিটতেই সেই টাকা ফেরত পেতে তৎপর হয়েছে গেরুয়া শিবির। মুখে মানুষের পাশে থাকার কথা বললেও আদতে যে বিজেপি নিজেদের স্বার্থ ছাড়া কিছু বোঝে না, এই ঘটনা তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করে দিল।