সরকারি চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত প্র্যাকটিস নিষিদ্ধ করল বিহার সরকার
বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
পাটনা, ১২ এপ্রিল: সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত ডাক্তাররা নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতে পারবেন না। সাম্প্রতি এমনি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে বিহার সরকার। সরকারি আধিকারিকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ। সরকারের ‘সাত নিশ্চয়-৩’ কর্মসূচির আওতায় গৃহীত এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হল সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীদের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য ও সময়মতো চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা। এর ফলে চিকিৎসকদের সম্পূর্ণ মনোযোগ সরকারি দায়িত্ব পালনের দিকেই নিবদ্ধ থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যের অধীনস্থ কোনও সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক আর ব্যক্তিগত চেম্বার চালাতে পারবেন না। বা সরকারি পরিষেবার বাইরে চিকিৎসা দিতে পারবেন না। বিহার হেলথ সার্ভিসেস ক্যাডার, বিহার মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিস ক্যাডার এবং ইন্দিরা গান্ধি ইনস্টিটিউট অফ কার্ডিওলজি এর সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ফলে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ও বড় সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসকরাও এই নীতির আওতায় থাকবেন।
সরকারি সূত্রে দাবি, 'দীর্ঘদিন ধরেই ব্যক্তিগত প্র্যাকটিসের কারণে সরকারি চিকিৎসকদের কাজে বিভাজন তৈরি হচ্ছিল, যার প্রভাব পড়ছিল হাসপাতালের পরিষেবায়। এই দ্বৈত প্রথা বন্ধ করা গেলে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাড়বে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং রোগীদের জন্য পরিষেবার মান উন্নত হবে'।
তবে চিকিৎসকদের আর্থিক ক্ষতি পূরণ দিতে সরকার ‘নন-প্র্যাকটিসিং অ্যালাউন্স’ দেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে। এর পাশাপাশি আরও কিছু প্রণোদনার বিষয়েও ভাবনা-চিন্তা চলছে। ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন ড. রেখা ঝা। বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য পরিষেবা সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি এই সিদ্ধান্তে আসে যে, ব্যক্তিগত প্র্যাকটিসে নিষেধাজ্ঞা আনলে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বহু ত্রুটি দূর করা সম্ভব হবে।