রাজবংশীদের জন্য মাত্র ছ’শব্দ খরচ মোদির! হাজার প্রশ্ন, কান্না চাপা পড়ল ‘ভক্ত’দের করতালিতে
বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: সাংবিধানিক অধিকারই যেখানে ‘চক্রান্ত’ করে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, সাংবিধানিকভাবে কী করে পাশে থাকবেন! শনিবার বিকেলে দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজবংশী অধ্যুষিত কুশমণ্ডির মানুষের কাছে স্বপ্ন ফেরি করতে এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। মাথায় হাত বুলিয়ে ভোট কুড়িয়ে নেওয়ার চেনা ঢংয়ে খাগড়াইল মাঠে একের পর এক প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিলেন। অথচ, গুনে গুনে মাত্র ছ’টি শব্দ খরচ করলেন এসআইআরে বাদ যাওয়া রাজবংশীদের জন্য!
শুধু কুশমণ্ডি বিধানসভাতেই প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ রাজবংশী। দুই দিনাজপুর মিলিয়ে সংখ্যাটা প্রায় কয়েক লক্ষ। অনেকেই ভেবেছিলেন দুই জেলার কয়েকটি বিধানসভা আসনে অন্যতম ফ্যাক্টর এই সমাজের মানুষের পাশে থাকার বার্তা দেবেন মোদি। অভয়বাণী শোনাবেন বাপ-ঠাকুরদার আমল থেকে বসবাস করেও নজিরবিহীনভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যাওয়া ভোটারদের। কিন্তু সে গুড়ে বালি। মোদির বক্তৃতার আগাগোড়া শুধুই প্রতিশ্রুতি ও তৃণমূল সরকারের সমালোচনা। শুধু একবারই বললেন, সাংবিধানিকভাবে মতুয়া ও রাজবংশীদের পাশে থাকা হবে। এভাবেই সভায় আসা রাজবংশীদের মনে জমে থাকা হাজারো প্রশ্ন এবং কান্না এদিন চাপা পড়ে গেল কিছু ‘ভক্তের’ তুমুল করতালিতে।
এখন রোজগার ছেড়ে ট্রাইবুনালের লাইনে দাঁড়ানো রাজবংশীদের প্রশ্ন- আমরা কি শুধুই বোড়ে? ভোটাররা কি শুধুই খেলনা? ভোটের সময় এসে ইচ্ছেমতো আবেগে সুড়সুড়ি, প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের সঙ্গে খেললাম, বাকি সময় পড়ে থাকল এক কোণায়! অবশ্য, নরেন্দ্র মোদির জমানার ভিতই গড়ে উঠেছে প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে। পরের পর ভোটে তাঁর সেই প্রতিশ্রুতির ঝুলি বহরে আরও বেড়েছে মাত্র। কোনোটাই বাস্তবের আলো দেখে না। বিরোধীদের এমন অভিযোগের তালিকায় নবতম সংযোজন কুশমণ্ডি। এদিন এই ইস্যুতে মোদিকে বিঁধেছেন তৃণমূলের রাজবংশী নেতা অম্বরিশ সরকার। একইসঙ্গে বিস্ময় প্রকাশ করে তাঁর মন্তব্য, কুশমণ্ডি ও গঙ্গারামপুরে বহু রাজবংশীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অথচ তাঁদের মাটিতে দাঁড়িয়ে এবিষয়ে একটি কথাও বললেন না প্রধানমন্ত্রী! একইসঙ্গে তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার রাজবংশী সমাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, লোকশিল্পের প্রসার ও শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর মতো একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। তৃণমূল সবসময় তাঁদের পাশে রয়েছে।
জেলা বিজেপির অন্যতম প্রধান ইস্যু মেডিকেল কলেজ স্থাপন। প্রচারে এবিষয়েও মোদির মুখে কোনো কথা না শুনে চর্চা শুরু হয়েছে দলের অন্দরেও।