ফোন করলেন ‘প্রধানমন্ত্রী’, দুর্দশার কথা জানাতেই পারলেন না মালদহের জিয়াউর
বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সৌম্য দে সরকার, মালদহ: বিকালে সবে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরেছেন আরবির শিক্ষক জিয়াউর রহমান। চোখেমুখে জল দিয়ে মুড়ির বাটি নিয়ে বসতেই বেজে উঠল ফোন। শশব্যস্ত হয়ে ধরতেই ওপাশ থেকে ভেসে এল খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গলা। রাজ্যের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ফোনেই ভোট প্রার্থনা করলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথা শুনতে শুনতেই জিয়াউর বলতে যাচ্ছিলেন তাঁর পরিবারের পাঁচজন সদস্যের নাম তো ভোটার তালিকায় বিচারাধীন ছিল। কিন্তু পরক্ষণেই বুঝলেন আসলে ওটা প্রধানমন্ত্রীর রেকর্ড করা ভয়েস। হতাশ হয়ে ফোন কেটে দেন তিনি।
একই অভিজ্ঞতা মোবাসসেরা খাতুনের। এই গৃহবধূর মোবাইলেও এসেছিল প্রধানমন্ত্রীর ফোন। প্রথমে থতমত খেয়ে গিয়েছিলেন। পরে বুঝতে পারেন সেটি ছিল রেকর্ডেড ভয়েস কল।
এমনভাবে মালদহের অনেক সংখ্যালঘু মানুষের কাছেই আসছে মোদির এমন ফোন কল। তবে, শুধুমাত্র ভোট দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছেন তিনি। তাই মানুষের নিজের সমস্যা জানানোর সুযোগ থাকছে না কারও। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ আবার যে নম্বর থেকে ফোন আসছে, সেগুলিকে ব্লক করে দিচ্ছেন।
রাজ্য সরকার পোষিত মাদ্রাসার শিক্ষক জিয়াউর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ফোন এসেছিল ভোট চেয়ে। বলার চেষ্টা করেছিলাম ভোটার তালিকায় বিচারাধীন থাকার যন্ত্রণা। কিন্তু সে সুযোগ তো ছিল না। সম্প্রতি সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে নাম উঠেছে আমাদের পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু যে ক’দিন অনিশ্চয়তা ছিল একেক দিনকে যেন বছর মনে হচ্ছিল। দুর্বিষহ ওই যন্ত্রণার দিনগুলির অভিজ্ঞতা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানেন। প্রধানমন্ত্রীর কানে কি আদৌ পৌঁছায় আমাদের মতো মানুষের এই দুশ্চিন্তার কথা! আমরা কি শুধুই ভোট!
একই কথা কালিয়াচকের আমিনুল ইসলামেরও। আম ব্যবসায়ী আমিনুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ফোন আমিও পেয়েছি। তিনি ভোট চাইছেন। কিন্তু ভোট দেওয়ার অধিকারই তো অনেকে হারিয়েছেন। মোদি আমাদেরও প্রধানমন্ত্রী। কই! তিনি তো মুখ খুলছেন না এত মানুষের ভোটাধিকার হারানো নিয়ে। তাহলে ভরসা করব কাকে!
৫১ শতাংশ সংখ্যালঘু প্রধান মালদহে চর্চা শুরু হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর রেকর্ডেড ফোন কল নিয়ে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিদায়ী বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সির দাবি, এটা আরেকটা জুমলা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায়ের দিদিকে বলো বলে একটা ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে মানুষের কথাও শোনা হয়। কিন্তু বিজেপি একতরফা নিজেদের কথা বলে। মানুষের কথা শোনার সময় কোথায় তাদের?
পালটা বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর মন্তব্য, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সবার উন্নতি নিশ্চিত করার কথা। সবার বিশ্বাস জয়ের কথা। বিজেপিকে যাঁরা হিন্দুদের দল বলেন, তাঁরাও দেখুন সংখ্যালঘুদের কাছে নিজের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এতেই তৃণমূলের মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে।