• অভিষেক, দেবের মেগা রোড শো, জমজমাট মেমারি, বর্ধমান
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • সুখেন্দু পাল, মেমারি: শনিবার মেগা রোড শো দেখলো বর্ধমান এবং মেমারি। মেমারিতে রোডশো করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিডিও অফিসের কাছে থেকে তিনি দলের প্রার্থী রাসবিহারী হালদারের সমর্থনে রোড শো শুরু করেন। এদিকে, বর্ধমানে সর্বমঙ্গলা মন্দিরের কাছে থেকে রথতলা পর্যন্ত রোডশো করেন দেব। বর্ধমান দক্ষিণের প্রার্থী খোকন দাসকে সঙ্গে নিয়ে নিয়ে হুডখোলা গাড়ি চড়ে এগিয়ে যেতে থাকেন তারকা সাংসদ। দুই শহরের কর্মসূচিতেই ভিড় উপচে পড়েছিল। মেমারিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক ঝলক দেখতে রাস্তার দু’পাশে লোকজন রোদ উপেক্ষা করেই দাঁড়িয়ে থাকেন। ঢাকের আওয়াজ আর উলুধ্বনিতে এই কর্মসূচি আর জমজমাট হয়ে ওঠে। ভিড় দেখে আবেগতাড়িত হয়ে অভিষেক বলেন, যে উন্মদনা দেখলাম তাতে আমি মেমারির কাছে কৃতজ্ঞ। মনে হচ্ছে, এ যেন বিজয় মিছিল। বিজেপি’র জমানত জব্দ করতে হবে। মেমারিতে দল জিতলে উন্নয়ন নিয়ে ভাবতে হবে না। সরাসরি এখানকার নেতৃত্বর সঙ্গে যোগাযোগ করব। বিজেপি’র জমানত জব্দ করতে হবে। দশমীর বিসর্জন হবে ৪ মে। মেমারিতে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। দমকলকেন্দ্র হয়েছে। কিষাণমাণ্ডি হয়েছে। আগামী দিনে আরও কাজ হবে। 

    মেমারিতে এদিনের কর্মসূচিতে দলের প্রার্থী ছাড়া বিদায়ী বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য, ব্লক সভাপতি নিত্যানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যানরা উপস্থিত ছিলেন। রোড শো শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘আবার জিতবে বাংলা’ স্লোগানে মেমারি জমজমাট হয়ে ওঠে। রাস্তার দু’পাশ ছাড়া ছাদেও কর্মী এবং সমর্থকরা পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকে। ছাদের উপর ভিড় দেখে তৃণমূলের সর্বভারতীয় নেতা তাঁদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

    দেবের কর্মসূচির ছবিটা ছিল একই রকম। সর্বমঙ্গলা মন্দিরের কাছে অনেক আগে থেকেই সুপারস্টারকে এক ঝলক দেখার জন্য অনেকেই দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে থাকেন। রথতলা যাওয়ার রাস্তার দু’পাশে ছিল ব্যাপক ভিড়। তাঁকে ঘিরে সেলফি তোলার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। দেব হাত নেড়ে তৃণমূল প্রার্থীকে সমর্থন করার আহ্বান জানান। এদিনের ভিড় দেখে দেখে দুই বিধানসভাকেন্দ্রের তৃণমূল কর্মীরা আশাবাদী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ২০২১ সালের নির্বাচনে পূর্ব বধর্মানের ১৬টি আসনেই দল জয়ী হয়েছিল। এবারও সেটা করতে হবে। কোনও ভদ্রলোক বিজেপি করে না। যত জেলখাটা আসামী বিজেপিতে যায়। যারা দাপাদাপি করছে তাদের গণতান্ত্রিকভাবে জবাব দিতে হবে। বিজেপি গোপনে খেলছে। আমরা সামনে থেকে লড়ছি। মেমারি সিপিএমের আতুরঘর ছিল। বিনয় কোঙার নন্দীগ্রামের বাসিন্দাদের ‘লাইফ হেল’ করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। মানুষ সিপিএমকে জব্দ করেছে। এখন বাম থেকে অনেকে রাম হয়েছে। ২৯ তারিখে খেলা হবে। নির্বাচন কমিশনকেও বিজেপি অভিষেক এক হাত নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভ্যানিশ কুমার’ বিজেপির দাসত্ব করছেন। আসলে বাংলার মানুষকে বিজেপি চেনে না।
  • Link to this news (বর্তমান)