• গোটা বাংলা এক হয়ে উৎখাত করবে বিজেপিকে: অভিষেক
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • অভিষেক পাল ও সুখেন্দু পাল: শক্তিপুর ও মেমারি: গোটা বাংলাকে জোটবদ্ধ হওয়ার ডাক দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেটাও বিজেপিকে উৎখাত করার জন্য। শনিবার মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর ও বর্ধমানের মেমারিতে তিনি নির্বাচনি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। শক্তিপুরে জনপ্লাবন দেখে আত্মবিশ্বাসী অভিষেক বলেন, ‘ভয়কে জয় করে, যারা উৎখাতের ডাক দেয়, তারাই ইতিহাস লেখে। এবারের নির্বাচন যেন সেই ইতিহাস লেখার নির্বাচন। ২০২৯ সালে কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের উৎখাত করতে এখন থেকেই লড়াই করতে হবে। এই মাটিতে যদি তৃণমূল দুর্বল হয়, যতটা তৃণমূলের ক্ষতি, তার থেকে অনেক বেশি ক্ষতি আপনাদের।’

    মেমারির সভা থেকে বিজেপির জামানত জব্দ করার আহ্বান জানিয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। বলেছেন, ‘বামেরাই এখন রাম হয়েছে। এদের গণতান্ত্রিকভাবে জবাব দিতে হবে। বিজেপি বাঙালিকে অপমান করেছে। বাংলা বললেই বাংলাদেশি বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে। মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে টিটকিরি করছে। এর জবাব ভোটবাক্সে দিতে হবে।’

    শক্তিপুরের সভায় বিজেপি, কংগ্রেস, বাম ও মিমকে একই সারিতে বসিয়ে তুলোধোনা করার পাশাপশি মুষ্টিবদ্ধ হাত উপরে তুলে অভিষেক বলেন, ‘জবাব এমন হবে, যাতে ২০২৯ সালে কেন্দ্রের সরকারে মোদি আর না থাকেন।’ ১০ ফুট দূরে মঞ্চের দিকে হাত তুলে অভিষেকের কথার সমর্থন জানাচ্ছিলেন বছর পঞ্চান্নর রতন শেখ ও অসীম দাসরা। যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাপতির কণ্ঠে তাঁরা যে উদ্বুদ্ধ, তা জানান দিচ্ছিলেন। 

    অভিষেক বলেন, ‘আমাদের অনুপ্রবেশকারী বলেছে। আমাদের রোহিঙ্গা বলেছে। যাদের ভোটে ওরা জিতেছে, তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। আমাদের দেশপ্রেমী হওয়ার সার্টিফিকেট নরেন্দ্র মোদি এবং যোগী আদিত্যনাথদের থেকে নিতে হবে না। বিজেপির তিনটি এজেন্সি এখানে কাজ করছে। জ্ঞানেশ কুমার, অধীর চৌধুরী ও হুমায়ুন কবীর। আমরা মানুষকে বিশ্বাস করি। যদি মানুষের বিশ্বাসের অমর্যাদা কেউ করে, তার জবাবটাও দিতে জানি।’ 

    অভিষেকের হুংকারের সঙ্গে গলা মিলিয়ে সভাস্থলে স্লোগান ওঠে, ‘জয় বাংলা’। মানুষের উচ্ছ্বাসে ভেসে অভিষেক ফের বলতে শুরু করেন, ‘আপনাদের ভরসার অমর্যাদা কোনোদিন তৃণমূল হতে দেবে না। বিজেপির কাছে বশ্যতা স্বীকার করিনি। মেরুদণ্ড বিক্রি করিনি। অনেক অত্যাচার সত্ত্বেও মাথা নত করিনি। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম যদি অমিত শাহ হয়, তাহলে বাংলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমাদের কমিটমেন্ট, কাউকে ধর্মে বিভাজন করতে দেব না।’ তিনি মনে করান, ‘ভারতবর্ষে ১৫৫০টি রাজনৈতিক দল আছে। বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই করছে। আগামী দিনেও এর ব্যতিক্রম হবে না।’
  • Link to this news (বর্তমান)