নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লকের অভিযোগ, মধ্যমগ্রামে তাদের প্রার্থীর দেওয়াল লিখনের উপর আইএসএফ পোস্টার মেরেছে। আইএসএফ প্রার্থীর সেই পোস্টার আবার মেরেছে সিপিএম! সিপিএমের কর্মী-সমর্থকদের যুক্তি, মধ্যমগ্রামে বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী আইএসএফের। ফরওয়ার্ড ব্লক সেখানে আলাদাভাবে প্রার্থী দিয়েছে। একই অবস্থা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী কেন্দ্রের। সেখানে আইএসএফের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়েছে আরএসপি। অর্থাৎ সিংহভাগ ক্ষেত্রে আসন সমঝোতা হলেও কিছু কেন্দ্রে রেষারেষি নিয়েই ময়দানে নেমেছে বামেরা। তবে শনিবার সেই আইএসএফ, আরএসপি, ফরওয়ার্ড ব্লক ও সিপিএম একসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর অভিমুখে
মিছিল করল।
এক বামকর্মী রসিকতা করে বলছিলেন, ‘কিছু রেষারেষি। কিন্তু আসলে পাশাপাশি।’ ২৭ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে এদিন বামফ্রন্ট ও সহযোগী দলগুলি ধর্মতলা থেকে ক্যানিং স্ট্রিট পর্যন্ত মিছিল করে। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, আরএসপি নেতা মনোজ ভট্টাচার্য, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের রাজ্য সম্পাদক অভিজিত্ মজুমদার, সিপিআই নেতা গৌতম রায়, লিবারেশন নেতা কার্তিক পাল প্রমুখ। জোড়াসাঁকো, চৌরঙ্গী, মানিকতলা, মেটিয়াবুরুজ, রাসবিহারী কেন্দ্রের বাম প্রার্থীরাও মিছিলে উপস্থিত ছিলেন। মিছিল শেষে শিপিং কর্পোরেশনের সামনে সংক্ষিপ্ত সভা হয়। সেই সভা থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিমান বসু, মহম্মদ সেলিমরা।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সেলিম বলেন, ‘মোদি সরকার ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র তৈরি করতে চাইছে। কিছু বশংবদ আমলাকে সংঘ পরিবার থেকে এনে মাথায় বসানো হয়েছে। রাজ্যেও একই অবস্থা। আরাবল্লি পাহাড়, কৃষক আইন, রাম মন্দিরের সময় আমরা বিচার বিভাগের ভূমিকা দেখেছি। আইন অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে প্রতিবাদই একমাত্র রাস্তা। নিরপেক্ষ ভোটার তালিকা না হলে নিরপেক্ষ ভোট হতে পারে না। যে আরএসএস স্বাধীনতা সংগ্রামে একটা পিঁপড়েও মারেনি, সে ঠিক করবে কে দেশদ্রোহী আর কে দেশপ্রেমী?’ বিমান বসু বলেন, ‘২৭ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ চলে যাচ্ছে। বলছে, যদি ভোটাধিকার পায়ও, এবার ভোট দিতে পারবে না। এটা তো তাঁদের দোষ নয়। বারবার বলেছি, বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে ভোট করা যাবে না।’