• প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা: মোদির দাবি নস্যাৎ কেন্দ্রের তথ্যে, সরব তৃণমূল, ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম মেটাতে হচ্ছে আলুচাষিকেই
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • প্রীতেশ বসু, কলকাতা: আবহাওয়া অনুকূল থাকায় অতিরিক্ত আলু উৎপাদন কৃষকদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিষয়টি আগেভাগে বুঝতে পেরে নির্বাচন ঘোষণার আগেই আলুচাষিদের পাশে দাঁড়ানোর রূপরেখা স্থির করে ফেলেছিল নবান্ন। কিন্তু রাজ্যে নির্বাচনের বাদ্যি বাজতেই আলুর অতিরিক্ত ফলনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করে কৃষক ভোটে কোপ বসানোর চেষ্টায় খামতি রাখেনি গেরুয়া শিবির। এমনকি, বীরভূমের সিউড়ির সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নামাঙ্কিত কেন্দ্রের ফসল বিমা যোজনা বাংলায় লাগু না হওয়ায় কৃষকরা সমস্যায় পড়ছেন। প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর নাম থাকাতেই ওই বিমার সুবিধা থেকে বাংলার কৃষকদের তৃণমূল সরকার বঞ্চিত করেছে বলে অভিযোগ তাঁর। যদিও সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য উঠে আসছে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের নথি থেকে। দেখা যাচ্ছে, উত্তরপ্রদেশ, অসমের মতো ডবল ইঞ্জিন রাজ্যের বহু জেলায় আলু চাষিদের স্বার্থে ফসল বিমার একটি পয়সাও খরচ করেনি মোদি সরকার। এই সমস্ত রাজ্যের সরকারের অবদানও শূন্য। তাহলে এসব জায়গায় প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম কাকে বহন করতে হয়েছে? কেন্দ্রের তথ্যই বলছে, মোদি সরকারের ফসল বিমার প্রিমিয়ামের পুরো টাকাই দিতে হয়েছে আলু উৎপাদনকারী কৃষককে! এখানেই তৃণমূলের বক্তব্য, নিজেদের পরিচালিত রাজ্যে কৃষকদের টাকায় বিমা চালানোর পরেও কেন্দ্রের প্রকল্প নিয়ে ঢাকঢোল পেটানো আসলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা ছাড়া কিছু নয়। তাদের আরও দাবি, এই কারণেই মোদি-শাহের গুজরাত সহ বহু রাজ্য চালুই করেনি কেন্দ্রের এই ফসল বিমা। পশ্চিমবঙ্গে বাংলা শস্য বিমা চালু করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এর অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে আলু চাষিদেরও। রাজ্যের নিজস্ব এই ফসল বিমার সুবিধা পেতে এক টাকাও খরচ করতে হয় না কৃষককে। সম্পূর্ণ প্রিমিয়ামই বহন করে রাজ্য সরকার। 

    রাজ্যের শাসক দলের দাবি, কেন্দ্রের অন্যান্য প্রকল্পের মতো এই প্রকল্পও জটিল হিসাবে জর্জরিত, যা প্রান্তিক কৃষকদের পক্ষে বোঝা কঠিন। যেমন, কেন্দ্রের এই ফসল বিমার ক্ষেত্রে বিমার রাশির (সাম অ্যাসিওর্ড) পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত প্রিমিয়াম হলে তা মেটাতে হবে কৃষককেই। যদি প্রিমিয়ামের অঙ্ক মোট রাশির পাঁচ শতাংশের বেশি হয়, তাহলে বাকি টাকার ৫০ শতাংশ করে প্রদান করবে কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য। কিন্তু, উত্তরপ্রদেশের আলু উৎপাদনে এগিয়ে থাকা ফারুকাবাদ জেলাই হোক বা অসমের বরপেটা—সম্পূর্ণ প্রিমিয়ামই মিটিয়েছেন আলু চাষিরা। আবার, এমন বহু জেলা রয়েছে, যেখানে কেন্দ্র এবং রাজ্যের তুলনায় প্রিমিয়াম বাবদ অনেক বেশি টাকা দিতে হয়েছে আলু চাষিদের। যেমন উত্তরপ্রদেশের আগ্রা জেলা। এখানে এক হেক্টর জমির বিমার জন্য জন্য আলু চাষিকে গুনতে হয়েছে ১১ হাজার ২০০ টাকা। আর সরকার দিয়েছে ৬ হাজার ৭২০ টাকা। 

    এ বিষয়ে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী তথা বালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘মোদি যেভাবে এসে মিথ্যাচার করেছেন, তা একটি স্ট্রিট কর্নার মিটিংয়েও কেউ করে না। ফসল বিমার নামে একটি বড়ো অংশের কৃষকের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করা হচ্ছে। কৃষকের টাকায় নাম কিনছেন মোদি। ওঁদের এই কারসাজি অনেকদিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পেরেছিলেন। তাই রাজ্যের নিজস্ব বিমা চালু করেছেন তিনি।’ এই বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, এই সমস্ত যুক্তি শুধুই কেন্দ্রীয় প্রকল্প এ রাজ্যে লাগু না করে প্রান্তিক মানুষদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার আগাগোড়াই দিয়ে থাকে।  
  • Link to this news (বর্তমান)