• সংকটের বিকল্প ৫ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার! পকেটে টান মধ্যবিত্তের, ২৫ দিনে বুকিং সমস্যায় সুরাহা অধরাই, ঘুরপথে তেল কোম্পানিগুলির যথেচ্ছ মুনাফার পথ খুলল কেন্দ্র
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: একদিকে গৃহস্থের হেঁসেলে রান্নার গ্যাসের সংকট। আরেক দিকে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকে যথেচ্ছ মুনাফা লোটার সুযোগ করে দেওয়া। এই অবস্থায় কেন্দ্রের মোদি সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে তেল সংস্থাগুলিকেই! তাই একদিকে তারা গৃহস্থের সিলিন্ডার বুকিংয়ের ক্ষেত্রে নিয়ম কঠোর করছে। চাপানো হচ্ছে নিত্যনতুন বিধিনিষেধ। পাশাপাশি তারা অনেক বেশি দাম ও বাড়তি জিএসটি দিয়ে পাঁচ কেজির ছোটো এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহকদের ঘুরপথে বাধ্য করছে। নয়া নিয়ম অনুযায়ী, একটি সিলিন্ডার ডেলিভারির পর শহরাঞ্চলে ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিনের আগে বুকিং করা যাবে না। অর্থাৎ, ২৫ দিনের মধ্যে রান্নার গ্যাস ফুরিয়ে গেলে গৃহস্থ বাধ্য হচ্ছে বেশি দাম দিয়ে পাঁচ কেজি বা দু’কেজির ছোটো সিলিন্ডার কিনতে। আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির বাজারে পকেটে টান পড়ছে মধ্যবিত্তের। 

    গত মাসে এক ধাক্কায় ৬০ টাকা দাম বৃদ্ধির পর কলকাতায় ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের দর হয়েছে ৯৩৯ টাকা। আর চলতি মাসে পাঁচ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ধার্য হয়েছে ৫৮৩ টাকা। এই ধরনের সিলিন্ডারকে বলা হয় ‘ফ্রি ট্রেড এলপিজি’ (এফটিএল)। যখন খুশি এবং যত খুশি কেনা যাবে এই সিলিন্ডার। অর্থাৎ, দেশে বাণিজ্যিক ও গৃহস্থের সিলিন্ডারের যত সংকটই থাক না কেন, এই ধরনের সিলিন্ডারের কোনো সংকট নেই। হিসাব বলছে, ৫৮৩ টাকা দরে পাঁচ কেজির তিনটি সিলিন্ডার কিনতে খরচ হবে ১৭৪৯ টাকা। অথচ, বুকিংয়ের সময় এভাবে ২৫ দিনে বেঁধে না দিলে গ্রাহক ১৪.২ কেজির সিলিন্ডার পেয়ে যেতেন ৯৩৯ টাকায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই বর্ধিত দাম দিয়ে যত খুশি এলপিজি কেনা যাবে। সেখানে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশের আরও বক্তব্য, এই অবস্থায় ছোটো সিলিন্ডার বিক্রির জন্য তাঁদের উপর রীতিমতো চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। 

    ডিস্ট্রিবিউটাররা আরও জানাচ্ছেন, গ্রাহকরা আধার কার্ডের ফটোকপি জমা করে গ্যাস অফিস থেকে ছোটো সিলিন্ডার কিনতে পারেন। ইতিমধ্যে তেল সংস্থাগুলি নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ করেছে। যাঁদের একটি মাত্র সিলিন্ডার সংযোগ রয়েছে, তাঁরা যদি ডবল সিলিন্ডার পেতে চান, মিলবে না তাও। এক্ষেত্রে ভরসা সেই পাঁচ বা দু’কেজির সিলিন্ডার। গৃহস্থের সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে জিএসটি প্রযোজ্য হয় ৫ শতাংশ হারে। আর ছোটো সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে এই হার ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ চড়া দামে সিলিন্ডার বিক্রি করে শুধু যে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি মুনাফা বাড়াচ্ছে, তা নয়। সরকার নিজের ভাঁড়ারও ভর্তি করছে। আর সবটাই করা হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে! ডিস্ট্রিবিউটররা জানাচ্ছেন, ১৪.২ কেজি ও পাঁচ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে রেগুলেটরের গঠন একই। তাই আালাদা করে কোনো খরচ করতে হবে না গ্রাহককে। এই সংযোগ কেউ নিতে চাইলেই দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে সিলিন্ডার সহ নতুন সংযোগে খরচ হবে ১ হাজার ৫২৭ টাকা। ডিস্ট্রিবিউটর বা গ্যাস অফিস ছাড়াও খোলা বাজারে এই সিলিন্ডার পাওয়া যায়। সেখানে পাঁচ কেজি সিলিন্ডারের দাম কলকাতায় ৬১৮ টাকা ৫০ পয়সা। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যেখানে কোটি কোটি গ্রাহক রান্নার গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন, সেখানে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ব্যবসা করার প্রয়োজনীয়তা কতটা?
  • Link to this news (বর্তমান)