নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার বাংলা নববর্ষ। তাই কুমোরটুলিতে গণেশ‑লক্ষ্মী প্রতিমা কেনার ভিড়। এছাড়া হালখাতার জন্য শহরের বিভিন্ন দোকানে লাল খাতা কিনতেও দেখা গিয়েছে ব্যবসায়ীদের।
শনিবার পটুয়াপাড়ার বিভিন্ন চত্বরে বিভিন্ন আকারের গণেশ‑লক্ষ্মী বিক্রি হয়েছে। কোথাও ঢাউস আকৃতির গণেশ তৈরি হচ্ছে। সে কাজ এখন শেষপ্রান্তে পৌঁছেছে। কুমোরটুলি সূত্রে জানা গিয়েছে, ছ-সাত ফুটের গণেশ মূর্তি তৈরির বরাতও এসেছে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলি থেকে।
এদিন কুমোরটুলি স্ট্রিটে রাজা পালের স্টুডিয়োতে খদ্দেরদের ভিড়। সকলে দরদাম করে গণেশ‑লক্ষ্মী কিনলেন। শিল্পী বলেন, ‘২০০ থেকে ৪০০ টাকার গণেশ‑লক্ষ্মী কেনার ভিড় বেশি।’ শিল্পী সমর পাল বলেন, ‘টুকটাক করে বিক্রি ভালোই হচ্ছে। বহু দূর থেকে এসে অনেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন গণেশ।’ দমদম থেকে আসা এক দম্পতি তিন জোড়া গণেশ‑লক্ষ্মী কিনলেন। ক্রেতা সমর সান্যাল বলেন, ‘দু’ভাই ও বড়ো মেয়ের ব্যবসা আছে। সে কারণে তিন জোড়া গণেশ‑লক্ষ্মী কিনলাম।’ তাঁরা জানালেন, স্থানীয় বাজারেও গণেশ‑লক্ষ্মী পাওয়া যায়। কিন্তু কুমোরটুলি মানেই নস্টালজিয়া। রবীন্দ্র সরণি, বিধান সরণি, শ্যামবাজার, বাগবাজার, শোভাবাজার স্ট্রিট, গণেশ অ্যাভিনিউ ইত্যাদি এলাকার দোকানগুলিতে বিভিন্ন আকারের লালখাতা বিক্রি হচ্ছে। রবীন্দ্র সরণির একটি দোকানে ক্রেতা শিপ্রা মজুমদার বলেন, ‘প্রতিবছরই নববর্ষের দিন ঝুড়িতে করে লাল খাতা, লালচেলি, গণেশ‑লক্ষ্মী নিয়ে ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দিতে যাই।’ কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সমিতির অন্যতম কর্তা বাবু পাল বলেন, ‘আগে সাদামাটা গণেশ‑লক্ষ্মী দিয়ে নববর্ষে নতুন খাতার পুজো হত। কিন্তু এখন প্রতিমার নতুন ডিজাইন হচ্ছে। খদ্দেরদের আবদার মেনে গণেশ‑লক্ষ্মী ঠাকুর তৈরি হচ্ছে। শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে কেনার ভিড়। মঙ্গলবার পর্যন্ত ভালো বাজার পাওয়া যাবে।’