পলাতক সোনা পাপ্পুর নামে কোন থানায় ক’টি মামলা, রিপোর্ট তলব
বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: ভোটের মুখে কমিশনের চাপে কসবার সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারকে নিয়ে কার্যত ঘুম ছুটেছে লালবাজারের শীর্ষকর্তাদের। সোনা পাপ্পুর নামে কোনো মামলা আছে কি না, তা নিয়ে কলকাতার সব ডিভিশনের ডিসিদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য তলব করলেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, ইতিমধ্যে প্রায় সব ডিভিশনের ডিসি লিখিত রিপোর্ট পাঠাতে শুরু করেছেন পুলিশ কমিশনারকে। সেই সব রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতার ইস্ট ডিভিশনের আনন্দপুর, সার্ভে পার্ক থানায় সোনা পাপ্পুর নামে মামলা রয়েছে। আবার কলকাতা পুলিশের সাউথ-ইস্ট ডিভিশনের গড়িয়াহাট, রবীন্দ্র সরোবরের মতো থানাতেও সোনা পাপ্পুর নামে রয়েছে মামলা। এর মধ্যে গড়িয়াহাট থানার নথিতে সোনা পাপ্পু একজন ‘হিস্ট্রি শিটার’। পাশাপাশি, কসবা থানা এলাকার বাসিন্দা সোনা পাপ্পুর নামে কলকাতার সাউথ সুবার্বান ডিভিশনের কসবা থানায়ও মামলা রয়েছে। তবে ইএসডি, নর্থ এবং সাউথ ডিভিশনের থানাগুলিতে সোনা পাপ্পুর নামে কোনো মামলা নেই বলেই ডিসিরা রিপোর্টে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সিন্ডিকেটরাজ, তোলাবাজি, বেআইনি নির্মাণ নিয়ে এলাকা দখলের লড়াইতে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি বাপি হালদার এবং সোনা পাপ্পুর গ্যাংয়ের সংঘর্ষে গুলি ও বোমাবাজি হয় দক্ষিণ কলকাতার কাঁকুলিয়া রোডে। এই ঘটনার পর থেকে প্রায় সোয়া দু’মাস ধরে পলাতক সোনা পাপ্পু। ফেসবুকে একাধিকবার সোনা পাপ্পুকে ‘লাইভ’ করতে দেখা গেলেও লালবাজারের গুন্ডাদমন শাখার গোয়েন্দারা তাকে নাকি খুঁজেই পাচ্ছেন না! সূত্রের খবর, দক্ষিণ কলকাতার এক নির্মাণ ব্যবসায়ীর আশ্রয়ে রয়েছেন সোনা পাপ্পু। বিষয়টি অজানা নয় লালবাজারের অনেকের। তবুও কোনো এক রহস্যজনক কারণে সোনা পাপ্পুকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ লালবাজার!
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাদের একাংশের মতে, এই ব্যর্থতার কারণেই কমিশন সদ্য বদলি করেছে কলকাতা পুলিশের গুন্ডাদমন শাখার অ্যাসিস্টান্ট কমিশনার দেবজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমারকেও সরিয়ে দিতে দ্বিধা করেনি কমিশন। এমনকি, এই প্রভাবশালী সোনা পাপ্পুকে আড়াল করার অভিযোগে দিন কয়েক আগে কসবা থানার ওসি বিশ্বজিৎ দেবনাথকেও সাসপেন্ড হতে হয়েছে!