ভোট যত এগিয়ে আসছে, ভোট প্রচারের তেজ তত বাড়ছে। রবিবারের সকালের এই প্রচারকে তুঙ্গে তুললেন বহরমপুরের তিন প্রার্থী। রাস্তা নেমে জনসংযোগ করেন কংগ্রেস, বিজেপি, তৃণমূলের প্রার্থীরা।
ঘড়ির কাঁটা তখন সকাল আট'টা ছুঁইছুঁই। ছুটির সকালের বহরমপুর (Baharampur) তখনও সে ভাবে আড়মোড়া ভাঙেনি। এই অবস্থায় ওয়াইএমএ ময়দান লাগোয়া চত্বরে ঢাক, ঢোল ও তাসা পার্টির আওয়াজে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস (Congress) প্রার্থী অধীর চৌধুরীর সমর্থনে মিছিল শুরু হয়। ভোটের লড়াইয়ে রবিবারের ছুটির মেজাজকে কার্যত ঝড়ে পরিণত করলেন ওই পোড়খাওয়া রাজনীতিক।
বহরমপুরের সাধারণ মানুষকে কাছে টানতে নিজের মেজাজে পায়ে হেঁটে জনসংযোগ করেন অধীর (Adhir Chowdhury)। বহরমপুরের গোরাবাজার এলাকায় চোখের নিমেষে রাস্তার দু'ধারে ভিড় জমে যায়। আবালবৃদ্ধবনিতা সকলের হাতেই ছিল রজনীগন্ধার মালা অথবা গোলাপের তোড়া। প্রিয় নেতাকে এক ঝলক দেখতে জানলার গ্রিল বা বারান্দাতেও জমেছিল ভিড়। মাঝেমধ্যেই অনুগামীদের আবদারে হাঁটা থামিয়ে দিতে হয়েছে অধীরকে। কখনও হাসিমুখে হাত মেলালেন প্রবীণদের সঙ্গে, আবার কখনও মেতে উঠলেন শিশুদের সঙ্গে খুনসুটিতে। এই প্রচারের মধ্যেই নিজের পাড়া গোরাবাজার জজ কোট মোড়ের চিরপরিচিত বকুলতলা চায়ের দোকানে ঢুকে পড়েন তিনি। আড্ডাও মারেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে।
হাইভোল্টেজ প্রচারের মাঝেও যে তিনি সেই পুরোনো দিনের ‘ঘরের ছেলে’ হিসেবে থেকে গিয়েছেন সেই বার্তাও দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারের এই কৌশলই অধীরকে বাকিদের থেকে এগিয়ে রেখেছে।
অন্য দিকে, শনিবার জঙ্গিপুরের সভা থেকে রাজ্যের শাসকদলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সেই সঙ্গে তুলে ধরেছিলেন বিজেপির ‘ছয় গ্যারান্টি’। প্রধানমন্ত্রীর সেই গ্যারান্টি-কে সম্বল করেই রবিবার প্রচারে কার্যত ঝড় তুললেন বিজেপির (BJP) প্রার্থী সুব্রত মৈত্র।
রবিবার সকালেই বহরমপুর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দয়ানগর মোড় থেকে শুরু হয় তাঁর জনসংযোগ কর্মসূচি। পায়ে হেঁটে অলিগলি ঘোরার পাশাপাশি সারেন ‘ গৃহ সম্পর্ক অভিযান’। কেন রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিজেপির জয় প্রয়োজন তাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝান তিনি।
আর এক দিকে, রবিবার সকালে ওয়াইএমএ (YMA) মাঠ থেকে পায়ে হেঁটে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। লক্ষ্য একটাই— মানুষের দুয়ারে পৌঁছে যাওয়া। ওয়াইএমএ মাঠ থেকে শুরু হয়ে তাঁর মিছিল একে একে স্পর্শ করে শহরের একাধিক পাড়া। অলি-গলি ঘুরে প্রার্থী যখন স্বর্ণময়ী বাজারের মোড়ে এসে পৌঁছন, তখন তাঁকে ঘিরে কর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে বাজারের ব্যবসায়ী— সকলের সঙ্গেই হাত মিলিয়ে কুশল বিনিময় করলেন তিনি। বয়স্কদের আশীর্বাদ নিতেও দেখা যায় তাঁকে। সব শেষে স্পোর্টিং ক্লাবে এসে এ দিনের এই বর্ণাঢ্য পদযাত্রা শেষ করেন তৃণমূল প্রার্থী।
রবিবার সকাল থেকেই চড়া রোদের তোয়াক্কা না করে জনসংযোগ করতে পথে নামেন প্রার্থীরা।