এই সময়, কুলটি: পরিকাঠামো সংস্কারের পাশাপাশি লুপ্তপ্রায় কুলটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার শোনা গেল তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ ঘটকের গলায়। প্রতিশ্রুতি দিলেন, তিনি জিতলে সরকারি সহযোগিতায় গড়ে তোলা হবে সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র। কুলটির প্রতিভাকে আসানসোলের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। গত পাঁচ বছরে এই বিষয়টি যে একেবারেই উপেক্ষিত থেকেছে, সেই অভিযোগও করেছেন তিনি।
কুলটি বিধানসভা এলাকাটি পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমানায়। এখানকার পানীয় জল, নিকাশি, বর্জ্য সাফাই, বেকারত্ব ও স্বাস্থ্য পরিষেবা-সব কিছু নিয়েই ক্ষোভ ব্যাপক। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাংস্কৃতিক চর্চায় উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাব নিয়ে অভিযোগ। সম্প্রতি কুলটির বেশ কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে একটি কনভেনশনের আয়োজন করা হয়।
আমন্ত্রণ জানানো হয় আসানসোলের ডেপুটি মেয়র ও কুলটির তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎকে। কনভেনশনে সাংস্কৃতিক কর্মীরা অভিযোগ করেন, কুলটি বাদে পশ্চিম বর্ধমান জেলার বাকি সব বিধানসভা কেন্দ্রে সরকারি খরচে একটি করে বৃহৎ প্রেক্ষাগৃহ গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে স্থানীয় শিল্পীরা তাঁদের সৃজনশীলতাকে তুলে ধরতে পারেন। স্থানীয় বাচিকশিল্পী সুব্রত সিনহা বলেন, 'আমাদের কোনও অনুষ্ঠান করতে হলে আসানসোলে ছুটতে হয়।' রুপোলি পর্দার একসময়ের অভিনেতা ও নাট্যশিল্পী গৌরহরি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, 'জেলার প্রত্যেক এলাকায় সরকারি সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক উৎসব হয়। শুধুমাত্র কুলটি ব্যতিক্রম।' যাত্রাশিল্পী সুবল চক্রবর্তী বলেন, 'সুস্থ সংস্কৃতিই সামাজিক চেতনার বিকাশ ঘটায়। সে দিকে মনোনিবেশ করা দরকার।'
সবার কথা শোনার পরে অভিজিৎ জানান, কুলটি কারখানার কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ১৯২৯-এ একটি প্রেক্ষাগৃহ তৈরি হয়েছিল। ২০০৩-এ কারখানা বন্ধ হওয়ার পরে সেই প্রেক্ষাগৃহ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমি লুপ্তপ্রায় সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে ফিরিয়ে আনার যাবতীয় উদ্যোগ নেব।' পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, গত পাঁচ বছরে কুলটির কোনও উন্নতিই হয়নি। ভবিষ্যতে সেই ভুল যেন আর না হয়, কুলটিবাসীকেও তা স্মরণে রাখতে হবে। গত বিধানসভা ভোটে কুলটিতে জিতেছিল বিজেপি। এলাকার অনুন্নয়ন নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদায়ী বিধায়ক তথা এ বারের বিজেপি প্রার্থী অজয় পোদ্দার অবশ্য দায় চাপাতে চেয়েছেন তৃণমূলের উপরে। তাঁর বক্তব্য, 'বিগত দিনে কুলটিতে তিন বার তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন। তখন কেন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি!'