• নবীনের কাঁটা ফাগুন, খণ্ডঘোষে সভা করলেন মমতা
    এই সময় | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, খণ্ডঘোষ: রাজ্যের সর্বত্র প্রচারে যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানেই দলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, এখনও পর্যন্ত সেই সব এলাকাতেই গিয়েছেন তিনি। যেমন রবিবার তিনি সভা করলেন খণ্ডঘোষে, এখানকার তৃণমূল প্রার্থী নবীনচন্দ্র বাগের সমর্থনে। তাঁর প্রার্থীপদের খোলাখুলি বিরোধিতা করেছেন খণ্ডঘোষের ব্লক তৃণমূল সভাপতি অপার্থিব ইসলাম ওরফে ফাগুন। তবে ভাষণে সরাসরি বা ইঙ্গিতে তাঁর নাম করেননি মমতা। সভায় ফাগুনকে দেখাও যায়নি।

    দলীয় সূত্রে খবর, খণ্ডঘোষে সভা করা হয়েছে খুবই অল্প সময়ের নোটিসে। সভায় নবীনের হাত তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে জেতানোর আহ্বান জানান। নবীন বলেন, 'দিদি আশীর্বাদ করেছেন। যে জনপ্লাবন এ দিনের সভায় হয়েছে, তাতে স্পষ্ট, আমরাই খণ্ডঘোষে জিতব।' তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, খণ্ডঘোষে ফাগুনের বিদ্রোহে দলের প্রার্থীর প্রচারে সমস্যা তৈরি হয়েছে। মূলত সেই কারণেই এখানে এ দিন সভা করেন দলনেত্রী। দলের পক্ষ থেকে এই সভায় ফাগুনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

    উল্লেখ্য, দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সময়ে জামালপুরের ব্লক তৃণমূল সভাপতি মেহমুদ খানের নাম করে ফাগুন বলেছিলেন, ২০১৬-তে জামালপুরে তৃণমূলের প্রার্থী উজ্জ্বল প্রামাণিকের বিরোধিতা করেছিলেন মেহমুদ খান। সেই ভোটে উজ্জ্বল হেরে গেলেও দল পরে মেহমুদকে ব্লক সভাপতি করেছে, সোনার মুকুট দিয়েছে। তিনি এই সঙ্গেই প্রশ্ন করেন, 'আমরা যাঁরা সব কিছু দিয়ে দলটা করি, তাঁদের কোনও মূল্যায়ন হবে না কেন।'

    তাঁর এই বক্তব্যে দলের কর্মীরা অনেকে মনে করছেন, খণ্ডঘোষে নবীনকে হারানোর জন্য ফাগুনও হয়তো তলে তলে কোনও রাজনৈতিক চাল খেলছেন। এ দিন সভার একেবারে শেষের দিকে মেহমুদের সঙ্গে মমতা কিছু আলোচনা করেন। কী কথা হলো, জানতে চাওয়া হলে মেহমুদ বলেন, 'দিদি এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজ নিলেন। দলীয় কথা হয়েছে। সেটা সংবাদমাধ্যমকে বলার নয়।' ফাগুন বলেছেন, 'এই প্রথম দিদির সভায় আমি বাদ গেলাম। এত দিন দিদির সভা আমি দায়িত্ব নিয়ে করে এসেছি। এ বার মোবাইলে শুনলাম দিদির কথা। মানুষ কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটা তাঁদের বিষয়। আমি দলের বিরোধী নই।'

  • Link to this news (এই সময়)