এই সময়, দুর্গাপুর: নির্বাচনের আগেই সমাধান হলো স্টিল টাউনশিপের আবাসন-জটিলতার। রবিবার বিজেপি নেতৃত্ব সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দিলেন আর তিন বছর অন্তর আবাসনের লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করতে হবে না। স্থায়ী লাইসেন্স দেওয়ার ব্যাপারে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন সেল (স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া) কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে স্টিল টাউনশিপে যে সব আবাসন দখল হয়ে রয়েছে সেগুলি পুনরুদ্ধার করা হবে বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। যাঁদের মদতে আবাসন দখল হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা যাতে স্টিল টাউনশিপে পরিবার নিয়ে থাকতে পারেন তার জন্য লাইসেন্স প্রথায় তাঁদের আবাসন দেওয়া হয়। প্রতি তিন বছর অন্তর লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করতে হয়। তার ঝক্কি অনেক। স্থায়ী লাইসেন্সের দাবি ছিল অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিদায়ী বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই এই বিষয়ে দিল্লিতে ইস্পাত মন্ত্রকে একাধিক বার চিঠি দিয়েছেন। রবিবার লক্ষ্মণ বললেন, 'অবশেষে সেল স্থায়ী লাইসেন্স দেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে।'
এ দিন দুপুরে স্টিল টাউনশিপে বিদ্যাসাগর অ্যাভিনিউতে অবস্থিত বিজেপির এক দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের পদ্ম-প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, 'তিন দিন আগে আসানসোলের পোলো গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রীর সভা। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আবাসন লাইসেন্স সংক্রান্ত সমস্যার কথা লিখিত ভাবে জানাই। মাত্র দু'দিনের মধ্যে পিএমও দপ্তর থেকে ইস্পাত মন্ত্রকের মাধ্যমে সেলের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানানো হয়। সেলের চেয়ারম্যান লিখিত ভাবে জানিয়ে দেয়, এ বার থেকে আর পুনর্নবীকরণ নয়, আবাসনের বাসিন্দাদের নামে স্থায়ী লাইসেন্স দেওয়া হবে। আগামী ৪ তারিখের পরে স্থায়ী লাইসেন্সের শংসাপত্র দেওয়া হবে।'
স্থায়ী লাইসেন্স হলে আবাসন মেরামত করে পছন্দ মতো সাজাতে পারবেন বাসিন্দারা। স্টিল টাউনশিপের এক বাসিন্দা পরিমল অধিকারী বলেন, 'এই ঘোষণা যদি সত্যি হয়, তা হলে শেষ বয়সে স্বস্তি মিলবে। প্রতি তিন বছর অন্তর আবাসনের লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করানোর সময়ে নানা নিয়ম করে। যা অত্যন্ত অস্বস্তিকর। স্থায়ী লাইসেন্স পাওয়া গেলে আবাসনে নিশ্চিন্তে থাকা যাবে।' পাশাপাশি স্টিল টাউনশিপের ২,২৭৫ টি আবাসন দখল করার অভিযোগ পিএমও দপ্তরে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চন্দ্রশেখর।