এক সময়ে বালুরঘাট মানেই ছিল বাম দুর্গ। অতীতের সেই সুদিন আর নেই। ২০১১-তেই দুর্গ ভেঙে খানখান হয়ে যায়। তবে এখনও পর্যন্ত বালুরঘাটে নিজেদের শক্ত জমি তৈরি করতে পারেনি তৃণমূলও। বরং এই কেন্দ্রে বিরোধীদের প্রাধান্যই বেশি। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে (West Bengal Assembly Election 2026) বালুরঘাট কেন্দ্রের (Balurghat Constituency) লড়াইটা মূলত দ্বিমুখী, তৃণমূল বনাম বিজেপি (TMC Vs BJP)।
বালুরঘাট দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা সদর। ফলে গুরুত্ব অনেক বেশি। ২২ টি ওয়ার্ড ও তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং হিলির পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে বালুরঘাট বিধানসভা কেন্দ্র। ২০২১-এ এখানে জিতেছিলেন বিজেপির অশোক কুমার লাহিড়ী। গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে ৫০ হাজারের বেশি ভোটে লিড পেয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। এ বার আর অশোককে প্রার্থী করেনি পদ্মশিবির। তাঁর জায়গায় টিকিট পেয়েছেন বিদ্যুৎ কুমার রায়।
বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের বাজি বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব অর্পিত ঘোষ। জোড়াফুল শিবিরের বহু যুদ্ধের পোড় খাওয়া সৈনিক তিনি। ২০১৪ সালে বালুরঘাটের সাংসদও ছিলেন। তবে ২০১৯-এর নির্বাচনে হেরে যান। তাই এ বারের লড়াইটা হাড্ডাহাড্ডি হবে বলেই মনে করছেন অনেকে।
দুর্গ হাতছাড়া হলেও বালুরঘাটে এখনও বামেদের প্রভাব রয়েছে। এই কেন্দ্র থেকে এ বার অর্ণব চৌধুরিকে প্রার্থী করেছে আরএসপি। তিনি পেশায় শিক্ষক। তবে সাত বারের বিধায়ক তথা বাম আমলের কারামন্ত্রী প্রয়াত বিশ্বনাথ চৌধুরীর ছেলের পরিচয় তাঁকে লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘আমরা ক্ষমতায় এলে কৃষি, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষায় জোর দেব।’
বিজেপির বিদ্যুৎ রাজনীতির ময়দানে তুলনামূলক ভাবে নতুন। তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে লড়াইয়ে নেমেছেন তিনি। বিদ্যুৎ বলছেন, ‘ক্ষমতায় এলে মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করাই হবে আমার প্রথম কাজ।’ আবার গত দশ বছরের অনুন্নয়নকে হাতিয়ার করেছেন তৃণমূলের অর্পিতা। তাঁর কথায়, ‘তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কথা দিয়ে গিয়েছেন, আমরা জিতলে মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হবে। আমরা সেই কথা রাখব।’
তিন দলের প্রার্থীদের কাছেই বালুরঘাটে মেডিক্যাল কলেজ তৈরিই প্রধান ইস্যু। এই কেন্দ্রে কোনও হিমঘর নেই। প্রচারে তাও উঠে আসছে। পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হলেও তার পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। সেটাকেও ভোটের হাতিয়ার করছে বিজেপি এবং আরএসপি৷ পাশাপাশি প্রচারে বেরিয়ে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা।
২০২১-এ বিজেপি এগিয়ে থাকলেও তৃণমূলের সংগঠন ও প্রার্থী নির্ভর প্রচার এবং বাম ভোটের অবস্থানই শেষ পর্যন্ত ফলফল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তবে শেষ হাসি কে হাসবেন, সেটা জানার জন্য ৪ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।